জয়নাল আবেদিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সদস্য সংসদ। তিনি ফেনী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি ভিপি জয়নাল হিসাবে বেশি পরিচিত। 

জয়নাল আবেদিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জয়নাল আবেদিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

কর্মজীবন

ভিপি জয়নাল ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ) থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

হয়রানী

ভিপি জয়নাল ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বচনে প্রার্থী ছিলেন। ভোট গ্রহণের দিন বাংলাদের দুটি জাতীয় পত্রিকায় নামীদামী কোম্পানির মোবাইল ফোন সেটের ওপর ‘ডিসকাউন্ট’ অফার দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। যাতে ভিপি জয়নাল আবেদিনের ব্যক্তিগত নাম্বার ব্যবহার করা হয়। ‘পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় তাতে বলা হয়, ১৭,৯৯৯ টাকার শাওমি রেডমি নোট-৬ ডিসকাউন্ট দিয়ে বিক্রি হবে ৭,০০০ টাকায়।

যে আইফোন-৮ এর দাম ৯২,০০০ টাকা সেটি বিক্রি হবে মাত্র ৩২,০০০ টাকায়’ এতে অনেক গ্রাহক ভিপি জয়নালকে ফোন দিতে থাকেন। আর তার নাম্বারগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তিনি নির্বাচনে কর্মরত নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। গণমাধ্যম বলেছে নির্বাচনের সময় প্রার্থীকে এভাবে ফোন করে হয়রানীর নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। জয়নালের দুটি মোবাইল নাম্বার ছাড়াও আরও একটি ফোন নাম্বার দেয়া হয়েছে যেটি এক সময় ব্যবহার করতেন ফেনী-৩ আসনের সাবেক সাংসদমুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। 

 

জয়নাল আবেদিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

 

জয়নাল আবেদিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment