শামসুল ইসলাম খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

শামসুল ইসলাম খান (১ জানুয়ারী ১৯৩০-২১ জানুয়ারী ২০০৬) যিনি তার নির্বাচনী এলাকায় নয়া মিয়া নামেও পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পরপর চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

শামসুল ইসলাম খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

শামসুল ইসলাম খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

শামসুল ইসলাম খান ১ জানুয়ারী ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) মানিকগঞ্জ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন।

কর্মজীবন

শামসুল ইসলাম খান ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আবাহনী লিমিটেডের প্রধান প্রিষ্ঠপোষক ও সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালেও মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।  তিনি মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

শামসুল ইসলাম খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

ব্যক্তিগত জীবন

শামসুল ইসলাম খানের বড় ছেলে মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ৭ আগস্ট ২০১৬ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি (মঈনুল ইসলাম খান শান্ত) মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার দুই কন্যা ও ২ পুত্র ছিলেন। তার ছোট ছেলে হাফিজুল ইসলাম উট্টু ১৯৮৮ সালে সারাদেশে ভয়াবহ বন্যার সময় সিঙ্গাইর উপজেলায় ত্রাণ বিতরনের সময় নৌকা ডুবিতে মারা যান।

মৃত্যু

শামসুল ইসলাম খান ২১ জানুয়ারী ২০০৬ সালে ঢাকার ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে মারা যান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

 

শামসুল ইসলাম খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি।

প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment