শামসুল হক চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

শামসুল হক চৌধুরী (৩০ জুন ১৯৩৬– ৭ মে ২০০৮) বাংলাদেশের রংপুর জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন রংপুর-১২ ও রংপুর-১৩ আসনের সংসদ -সদস্য ছিলেন।

শামসুল হক চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

শামসুল হক চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

শামসুল হক চৌধুরী ৩০ জুন ১৯৩৬ রংপুর জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভূরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে মেট্রিক পাশ করে ১৯৫৫ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। ১৯৫৭ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পারিবারিক উপাধি মন্ডলের পরিবর্তে তার নামের সাথে চৌধুরী উপাধি ব্যবহার করতেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবন

শামসুল হক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ভূরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেঅংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন রংপুর-১২ আসন থেকে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন রংপুর-১৩ আসন থেকে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

শামসুল হক চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মৃত্যু

শামসুল হক চৌধুরী ৭ মে ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ -সদস্য

সংসদ -সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ- সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ -সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ- সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ -সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ- সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ -সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ- সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

শামসুল হক চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ- সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment