আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

This post is also available in: বাংলাদেশ

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, আগে থেকেই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে, সরবরাহ-চেইনে (পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির সাথে জড়িত সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সম্পদ, কর্মকা- ও প্রযুক্তি) বিঘœ দেখা দিয়েছে।

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

 

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

 

তাই, আগে থেকেই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সরকার আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।’ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মুখ্য সচিব একথা বলেন। কায়কাউস বলেন, উদ্ভূত বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে কিছুই না করার চেয়ে সরকারের ইতিবাচক কিছু করা উচিত। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ অব্যহত থাকায় এর বিরূপ প্রভাবে দেশে আসন্ন অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেইলআউট চাইছে না।

বরং অগ্রিম বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ অব্যহত থাকলে বা সাপ্লাই চেইন বিঘিœত হলে- সতর্কতামূলক প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আগে থেকেই অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কিত বিভাগের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকারর সাথে বৈঠক করছে।’ মুখ্য সচিব বলেন, এ জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরো আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

 

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

 

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ঋণ নিচ্ছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে- বাংলাদেশের পর্যাপ্ত বৈদেশিক রিজার্ভ আছে, যা দিয়ে দেশের মানুষের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের চাহিদা মিটবে। তাই বাংলাদেশের ঋণ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি ভিন্ন উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ এখন একটি দ্রুত বর্ধনশীল দেশ।

আর এই অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কা হবে না পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পর্কে কিছুই লুকাচ্ছে না এবং সকলের কাছেই এটা দৃশ্যমান আছে। ব্রিটেনও সংকটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু ব্রিটেন একথা কখনোই বলেনি যে- দেশটি এই পরিস্থিতিতে ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

 

গত জুলাই মাসে একই সাথে মূদ্রাস্ফীতি হ্রাস ও রপ্তানী বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের সময়োচিত দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই এই সব সম্ভব হয়েছে। আরেকটি সমকালীন ইস্যু লোড শেডিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে যে- লোড শেডিংয়ের কারণে গোটা দেশই অন্ধকারে ঢেকে গেছে। ‘লোডশেডিং নিয়ে মানুষের এই মনোভাবটি  অতিরিক্ত। লোডশেডিংয়ের বিষয়টি আগে থেকেই ঘোষণা করে দেয়া হয়েছিল। উৎপাদনের যেন বিঘœ না ঘটে, সে লক্ষ্যেই লোডশেডিং অব্যহত রাখা হয়েছে। আমরা রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, এই রেশনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, সরকার এই গরম আবহাওয়ায় জ্বালানী ও তেল সাশ্রয় করে এর যথাযথ ব্যবহার করেছে। এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানীর সাশ্রয় ও যথাযথ ব্যবহার দেশের জন্য একটি বড় ধরনের অর্জন। এই লোডশেডিং পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, এটা বৈশ্বিক বাজারের ওপর নির্ভর করছে। তাছাড়া তেলের দামের সঙ্গেও এটা জড়িত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

আইএমএফ-এর ঋণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার

 

তিনি বলেন, জ্বালানী বাজার এখন উঠতির দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানী ও গ্যাসের পরিস্থিতি একই রকম। যদিও সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য-অবমূল্যায়নের ধাক্কা কাটিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর এর জন্য আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। রাশিয়া থেকে জ্বালানী আমদানির ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলছে।  জ্বালানী পাওয়া গেলে, তা আমদানি করা হবে।

দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ভাগ্যবান যে- দেশের অনেক স্থানেই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে, গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলনের বিষয়টি অনিশ্চিত। এর জন্য খনন করতে হয় এবং এটা অনেক ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, অনিশ্চিত ড্রিলিং এড়িয়ে গ্যাস আমদানি করা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। দেশের রপ্তানি পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকার দেশের রপ্তানী আয় বাড়াতে রপ্তানী বহুমুখীকরনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে। কায়কাউস বলেন, প্রধানমন্ত্রী রপ্তানী-বহুমুখীকরণের জন্য কৃষি-প্রক্রিয়াকরণের ওপর মনোযোগ দিতে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও দেখুনঃ

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন