আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার ছিলেন একজন বাংলাদেশী জাতীয় রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সমাজসেবক ও জাতীয় সংসদ সদস্য।

আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

তিনি ১৯৪৫ সালের ২৫ আগস্ট কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার মেহেরকুল দৌলতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মিয়াজান মজুমদার ও মাতার নাম আতনেন নেছা মজুমদার। তিনি পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। পরিবারে সকলে ছোট বেলায় তাকে আবু বলে ডাকতো। পড়াশুনা শুরু করেন তার পিতা মিয়াজান মজুমদার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে প্রথমবিভাগে SSC পাশ করেন। তারপর ভর্তি হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। ১৯৬৪ সালে তিনি মেধা তালিকায় ১৪ তম স্থান অধিকার করে এইচএসসি পাশ করে। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতির উপর অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

 

আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

কর্মজীবন

পড়াশুনা শেষ করে তিনি নজরোল একাডিমিতে (পিপুলিয়া) প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে রাজনীতির সাথে পুরপুরি মনোযোগ দেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকায় থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে তিনি স্বেচ্ছা সেবক বাহিনির বৃহওর কুমিল্লা জেলার প্রধান ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সংসদে তার বক্তব্য তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সময় রাজপথে এবং সংসদে স্বৈরাচারি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি জাতীয় নেতায় পরিনত হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি কুমিল্লা জেলা ১৫ দলের আহ্বায়ক ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্য্যকরি পরিষদের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং লন্ডনে এক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সমবায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লালমাই ডিগ্রী কলেজ, বাগমারা মহিলা কলেজ,বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ কুমিল্লা জেলায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেন। জীবনের শেষ সময় এসে আবুল কালাম মজুমদার মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করেন।

মৃত্যু

১৯৯৪ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ সদস্য:

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

“আবুল কালাম মজুমদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন