আব্দুল্লাহ আল কাফি | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

আব্দুল্লাহ আল কাফি ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত (তার মৃত্যু পর্যন্ত) দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

আব্দুল্লাহ আল কাফি | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

আব্দুল্লাহ আল কাফি | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন

আব্দুল্লাহ আল কাফী ১৯৪৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন।

শিক্ষকতা পেশা

কাফী ১৯৭৪ সালের ১৬ জানুয়ারি বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে (বর্তমান বীরগঞ্জ সরকারী কলেজ) প্রভাষক হিসাবে তার শিক্ষকতা পেশা শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দোক্তা ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন

কাফী যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, তখন থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে যোগদেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া পর ১৯৭২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হন। পরে ১৯৭৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান এবং সরকার তার উপর থেকে সকল চার্জ তুলে নেয়। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য হন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ দায়িত্ব পালন করেন। কাফী ২০০১ সাধারণ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের ব্যানারে ও জামায়াতের প্রার্থী হয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

আব্দুল্লাহ আল কাফি | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সংসদ সদস্য:

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

আব্দুল্লাহ আল কাফি | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন