কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!

This post is also available in: বাংলাদেশ

কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!, শারীরিক সংসর্গের বিষয়ে লোকলজ্জার কারণে ভারতে জন্মনিরোধক কনডমের ব্যবহার একেবারেই কম। দেশটির জন্মনিরোধক উপকরণের বাজারে মাত্র ৫ শতাংশ কনডমের দখলে। আর সেই দেশেই  এবার মাত্র ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার পেল একটি অনলাইন স্টোর!

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কোন মূল্যো ছাড়া কনডম বিতরণের জন্য গত ২৮ এপ্রিল অনলাইনে একটি স্টোরের উদ্বোধন করা হয়। সেখানেই শুরু থেকে ৬৯তম দিন পর্যন্ত ৯ লাখ ৫৬ হাজার কনডমের অর্ডার দিয়েছেন ভারতীয়রা।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এইচআইভি প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এইডস হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) উদ্যোগে এই অনলাইন স্টোরটি খোলা হয়। যৌথভাবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান ল্যাটেক্স লিমিটেড (এইচএলএল)।

 

কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!

 

কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!

 

ভারতে ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পের পরিচালক ভি সাম প্রসাদ বলেন, ‘এত অর্ডার পেয়ে আমরা বিস্মিত। আমাদের ধারণা ছিল, সংগ্রহে থাকা ১০ লাখ কনডম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ওই পরিমাণ কনডম স্টোর থেকে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে গেছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আরও ২০ লাখ কনডমের অর্ডার পাওয়া গেছে। জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ৫০ লাখে পৌঁছাবে।’

অনলাইন স্টোরটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল স্টোরটি উদ্বোধনের দিন থেকে ৬৯তম দিন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজার কনডমের অর্ডার দিয়েছেন ভারতীয়রা। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৪ হাজার কনডমের অর্ডার দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আর ৪ লাখ ৪১ হাজার অর্ডার এসেছিল সাধারণ মানুষের  থেকে। মানুষ সবচেয়ে বেশি অর্ডার করেছেন দিল্লি ও কর্ণাটক থেকে।

এই প্রেসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয়দের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শারীরিক মিলন বিষয়ে সচেতন থাকলেও লোকলজ্জার কারণে পাশের দোকানেই জন্মনিরোধক কিনতে যান না। তাঁরাই এখন অনলাইন স্টোর থেকে অনায়াসে তা সংগ্রহ করতে পারছেন। যাঁরা এগুলো গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেও জানেন না যে প্যাকেটের ভেতরে কী আছে। তাই এগুলো আদান-প্রদানে কারও বিব্রত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

 

কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!

 

কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজারের একজন মুখপাত্র বলেন, যৌনতা নিয়ে একেক দেশে একেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়। যুক্তরাজ্য অনেক উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে মানুষের কনডম কেনার হার ৩০ শতাংশ। আর ভারতে সেই হার মাত্র ৫ শতাংশ। দেশটিতে যৌনতা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার ও বেশ কিছু সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও কনডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকল্প চালু করেছে।

ভারতের সাম্প্রতিক ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কনডম ব্যবহার করেন। আগের জরিপের চেয়ে যা দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। উন্নয়নশীল রাজ্য হলেও কর্ণাটকে এই হার মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ ও বেঙ্গালুরুতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যেখানে কলকাতায় ১৯ শতাংশ ও দিল্লিতে ১০ শতাংশ মানুষ কনডম ব্যবহার করেন।

ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (এনএসিও) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে কনডম ব্যবহারের হার বাড়লেও তা আসলে বাড়ছে যৌনকর্মী ও অন্যান্য ঝুঁকিতে থাকা মানুষের মধ্যে। তাই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আরও অনেক দূর যেতে হবে। সংস্থাটি বলছে, বছরে প্রায় ২০০ থেকে ২২০ কোটি কনডম বিক্রি করতে হবে।

 

কনডম বিক্রি , ৬৯ দিনে ১০ লাখ কনডমের অর্ডার!

 

আরও দেখুনঃ

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন