কাজী নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি

This post is also available in: বাংলাদেশ English

কাজী নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি [ Brief biography of Kazi Nazrul Islam ]f: কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

Table of Contents

১৮৯৯ সালে নজরুল

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার, ২৪শে মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম। পিতামহ কাজী আমিনুল্লাহ। পিতা কাজী ফকির আহমদ। মাতামহ তোফায়েল আলী। মাতা জাহেদা খাতুন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কাজী সাহেবজান। কনিষ্ঠ ভ্রাতা কাজী আলী হোসেন। ভগড়বী উম্মে কুলসুম। নজরুলের ডাক—নাম ছিল দুখু মিয়া।

 

১৯০৮ সালে নজরুল

পিতা কাজী ফকির আহমদের মৃত্যু।

 

১৯০৯ সালে নজরুল

গ্রামের মক্তব থেকে নিমড়ব প্রাইমারি পাশ, মক্তবে শিক্ষকতা, মাজারের খাদেম, লেটো দলের সদস্য ও পালাগান ইত্যাদি রচনা।

 

১৯১১ সালে নজরুল

মাথরুন গ্রামে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

 

১৯১২ সালে নজরুল

স্কুল ত্যাগ, বাসুদেবের কবিদলের সঙ্গে সম্পর্ক, রেলওয়ে গার্ড সাহেবের খানসামা, আসানসোলে এম বখ্শের চা—রুটির দোকানে চাকুরি, আসানসোলে পুলিশ সাব—ইন্সপেক্টর ময়মনসিংহের কাজী রফিজউল্লাহ ও তাঁর পতড়বী শামসুনেড়বসা খানমের সেড়বহ লাভ।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯১৪ সালে নজরুল

কাজী রফিজউল্লাহ্্র সহায়তায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের কাজীর সিমলা, দরিরামপুর গমন এবং দরিরামপুর স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

 

১৯১৫-১৭ সালে নজরুল

রানিগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন, শৈলজানন্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব। প্রিটেস্ট পরীক্ষার আগে সেনাবাহিনীর ৪৯নং বাঙালি পল্টনে যোগদান।

 

১৯১৭-১৯ সালে নজরুল

সৈনিক জীবন, প্রধানত, করাচিতে গন্্জা বা আবিসিনিয়া লাইনে অতিবাহিত, ব্যাটালিয়ান কোয়ার্টার মাস্টার পদে উনড়বতি, সাহিত্যচর্চা। কলকাতার মাসিক সওগাতে ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্প এবং ত্রৈমাসিক বঙ্গীয়—মুসলমান—সাহিত্য—পত্রিকায় ‘মুক্তি’ কবিতা প্রকাশ।

 

১৯২০ সালে নজরুল

মার্চ মাসে সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যাবর্তন, বঙ্গীয়—মুসলমান—সাহিত্য—সমিতির ৩২নং কলেজ স্ট্রিটস্থ দফ্তরে মুজফ্্ফর আহমদের সঙ্গে অবস্থান, কলকাতায় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জীবন শুরু, ‘মোসলেম ভারত’, ‘বঙ্গীয়—মুসলমান—সাহিত্য—পত্রিকা’ প্রভৃতি পত্র—পত্রিকায় বিবিধ রচনা প্রকাশ।

সাংবাদিক জীবন, মে মাসে এ. কে. ফজলুল হকের সান্ধ্য—দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় যুগ্ম—সম্পাদক পদে যোগদান, নজরুল ও মুজফ্্ফর আহ্মদের ৮—এ টার্নার স্ট্রিটে অবস্থান, সেপ্টেম্বর মাসে ‘নবযুগ’ পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত এবং নজরুল ও মুজফফ্্র আহ্মদের বরিশাল ভ্রমণ, ‘নবযুগ’—এর চাকুরি পরিত্যাগ, বায়ু পরিবর্তনের জন্যে দেওঘর গমন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯২১ সালে নজরুল

দেওঘর থেকে প্রত্যাবর্তন, ‘মোসলেম ভারতে’র সম্পাদক আফজাল—উল—হকের সঙ্গে ৩২নং কলেজ স্ট্রিটে অবস্থান, পুনরায় ‘নবযুগে’ যোগদান।

এপ্রিল মাসে আলী আকবর খানের সঙ্গে কুমিল্লা যাত্রা, কান্দির পাড়ে ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্ত ও বিরজাসুন্দরী দেবীর আতিথ্য গ্রহণ, আলী আকবর খানের সঙ্গে দৌলতপুর গমন ও দুই মাস দৌলতপুর অবস্থান, আলী আকবর খানের ভাগিনেয়ী সৈয়দা খাতুন ওরফে নার্গিস আসার খানমের সঙ্গে ১৩২৮ বঙ্গাব্দের ২রা আষাঢ় বিবাহের তারিখ নির্ধারণ। কুমিল্লা থেকে ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের পরিবারের সকলের বিবাহে যোগদান, বিবাহের রাত্রেই নজরুলের দৌলতপুর ত্যাগ ও পরদিন কুমিল্লা গমন এবং অবস্থান। কলকাতায় বিবাহ—সংক্রান্ত গোলযোগের বার্তা প্রেরণ।

জুলাই মাসে মুজফ্্ফর আহ্মদের সঙ্গে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর হয়ে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন, ৩/৪—সি তালতলা লেনের বাড়িতে অবস্থান, অক্টোবর মাস অধ্যাপক (ডক্টর) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্্র সঙ্গে শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ। নভেম্বর মাসে পুনরায় কুমিল্লা গমন, অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ। কলকাতায় প্রত্যাবর্তন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে কলকাতায় তালতলা লেনের বাড়িতে বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনা। ‘বিদ্রোহী’ সাপ্তাহিত ‘বিজলী’ ও মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ছাপা হলে প্রবল আলোড়ন।

 

১৯২২ সালে নজরুল

চার মাস কুমিল্লা অবস্থান, আশালতা সেনগুপ্তা রওফে প্রমীলার সঙ্গে সম্পর্ক। মার্চ মাসে প্রথম গ্রন্থ ‘ব্যথার দান’ প্রকাশ। ২৫শে জুন কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু, কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় যোগদান, সত্যেন দত্ত সম্পর্কে রচিত শোক—কবিতা পাঠ। দৈনিক ‘সেবক’এ যোগদান ও চাকুরি পরিত্যাগ।

১২ই আগস্ট অর্ধ—সাপ্তাহিক
‘ধূমকেতু’ প্রকাশ, ধূমকেতুর জন্য রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ধূমতেুতে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশ, অক্টোবর মাসে ‘অগিড়ব—বীণা’ কাব্য ও ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশ, ‘যুগবাণী’ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, ধূমকেতুতে প্রকাশিত ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ বাজেয়াপ্ত, নভেম্বর মাসে নজরুলকে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে আটক। ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাতেই নজরুল প্রথম ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেছিলেন ১৩ই অক্টেবর ১৯২২ সংখ্যায়।

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯২৩ সালে নজরুল

জানুয়ারি মাসে বিচারকালে নজরুলের বিখ্যাত ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ আদালতে উপস্থাপন, এক বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড, আলিপুর জেলে স্থানান্তর, নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত’ গীতনাট্য উৎসর্গ, হুগলি জেলে স্থানান্তর, মে মাসে নজরুলের অনশন ধর্মঘট, শিলং থেকে রবীন্দ্রনাথের টেলিগ্রাম, Give up hunger strike, our literature claims you, বিরজাসুন্দরী দেবীর অনুরোধে অনশন ভঙ্গ, জুলাই মাসে বহরমপুর জেলে স্থানান্তর, ডিসেম্বরে মুক্তিলাভ।

 

১৯২৪ সালে নজরুল

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের মেদিনীপুর শাখার একাদশ বার্ষিক অধিবেশনে যোগদান। মিসেস এম রহমানের উদ্যোগে এপ্রিলে প্রমীলার সঙ্গে বিবাহ, হুগলিতে নজরুলের সংসার স্থাপন, অগাস্টে ‘বিষের বাঁশী’ ও ‘ভাঙার গান’ প্রকাশ ও সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত, ‘শনিবারের চিঠি’তে নজরুল—বিরোধী প্রচারণা। হুগলিতে নজরুলের প্রথম পুত্র আজাদ কামালের জন্ম ও অকালমৃত্যু।

 

১৯২৫ সালে নজরুল

মে মাসে কংগ্রেসের ফরিদপুর অধিবেশনে যোগদান। এই অধিবেশনের গুরুত্ব, মহাত্মা গান্ধি এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের যোগদান। জুলাই মাসে বাঁকুড়া সফর, ‘কল্লোল’ পত্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক, ডিসেম্বর মাসে নজরুল ইসলাম, হেমন্তকুমার সরকার, কুতুবউদ্দীন আহ্মদ ও শামসুদ্দিন হোসায়ন কর্তৃক ভারতীয় কংগ্রেসের অন্তর্গত ‘মজুর স্বরাজ পার্টি’ গঠন। ডিসেম্বরে শ্রমিক প্রজা স্বরাজ দলের মুখপত্র ‘লাঙল’ প্রকাশ, প্রধান পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম। ‘লাঙল’এর জন্যেও রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী। ‘লাঙল’ বাংলা ভাষায় প্রথম শ্রেণিসচেতন পত্রিকা। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু ১৬ই জুন। কবিতা সংকলন ‘চিত্তনামা’ প্রকাশ।

 

১৯২৬ সালে নজরুল

জানুয়ারি থেকে কৃষ্ণনগরে বসবাস। মার্চ মাসে মাদারিপুরে নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রদেশীয় মৎসজীবী সম্মেলনে যোগদান। এপ্রিল মাসে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত। এপ্রিলে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও হিন্দু—মুসলমান সমস্য নিয়ে আলোচনা। রবীন্দ্রনাথকে ‘চল চঞ্চল বাণীর দুলাল’, ‘ধ্বংস পথের যাত্রীদল’ এবং ‘শিকল—পরা ছল’ গান শোনান। মে মাসে কৃষ্ণনগরে কংগ্রেসের বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, কিষাণ সভায় ‘কৃষাণের গান’ ও ‘শ্রমিকের গান’ এবং ছাত্র ও যুব সম্মেলনে ‘ছাত্রদলের গান’ পরিবেশন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

জুলাই মাসে চট্টগ্রাম, অক্টোবর মাসে সিলেট এবং যশোর ও খুলনা সফর। সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের জন্ম। আর্থিক অনটন। ‘দারিদ্র্য’ কবিতা রচনা। নভেম্বর মাসে পূর্ববঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভায় উচ্চ পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পরাজয় বরণ। ডিসেম্বর থেকে গজল রচনার সূত্রপাত, ‘বাগিচায় বুলবুলি’, ‘আসে বসন্ত ফুলবনে’, ‘দুরন্ত বায়ু পুরবইয়াঁ’, ‘মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে’ ইত্যাদি গান ও ‘খালেদ’ কবিতা রচনা। নজরুলের ক্রমাগত অসুস্থতা।

 

১৯২৭ সালে নজরুল

ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান ও ‘খোশ আমদেদ’ গানটি পরিবেশন, ‘খালেদ’ কবিতা আবৃত্তি।

বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলের কার্যনির্বাহক কমিটির সদস্য নির্বাচিত। কৃষক ও শ্রমিক দলের সাপ্তাহিক মুখপত্র ‘গণবাণী’র (সম্পাদক মুজফ্্ফর আহ্মদ) জন্যে এপ্রিল মাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল’, ‘রেড ফ্লাগ’ ও শেলির ভাব অবলম্বনে যথাক্রমে ‘অন্তর ন্যাশনাল সংগীত’, ‘রক্ত—পতাকার গান’ ও ‘জাগর তূর্য’ রচনা। জুলাই মাসে ‘গণ—বাণী’ অফিসে পুলিশের হানা। আধুনিক সাহিত্য সম্পর্কিত বাদ—প্রতিবাদ।

রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, প্রমথ চৌধুরী, নজরুল, সজনীকান্ত দাস, মোহিতলাল মজুমদার, যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত প্রমুখ সাহিত্যিক এবং ‘প্রবাসী’, ‘শনিবারের চিঠি’, ‘কল্লোল’, ‘কালিকলম’ প্রভৃতি পত্র—পত্রিকায় বিতর্ক। ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্সি কলেজে রবীন্দ্র পরিষদে রবীন্দ্রনাথের ভাষণ, ‘সাহিত্যে নবত্ব’ প্রবন্ধ এবং নজরুলের প্রবন্ধ ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’, ‘রক্ত’ অর্থে ‘খুন’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক। বিতর্কের অবসানে প্রমথ চৌধুরীর ‘বাংলা সাহিত্যে খুনের মামলা’ প্রবন্ধ।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

‘ইসলাম দর্শন’, ‘মোসলেম দর্পণ’ প্রভৃতি রক্ষণশীল মুসলমান পত্রিকায় নজরুল—সমালোচনা। ইব্্রাহিম খান, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, আবুল হোসেনের নজরুল—সমর্থন।

 

১৯২৮ সালে নজরুল

ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান, এই সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীতের জন্যে ‘নতুনের গান’ [চল্্ চল্্ চল্্] রচনা। ঢাকায় অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, বুদ্ধদেব বসু, অজিত দত্ত, মিস্্ ফজিলতুনেড়বসা, প্রতিভা সোম, উমা মৈত্র প্রমুখের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। মে মাসে নজরুলের মাতা জাহেদা খাতুনের ইন্তিকাল।

সেপ্টেম্বর মাসে কলিকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে শরৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দিলীপকুমার রায়, সাহানা দেবী ও নলিনীকান্তের সঙ্গে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনা।

অক্টোবর ‘সঞ্চিতা’ প্রকাশ। ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় নজরুল বিরোধিতা। ‘সওগাত’ পত্রিকার নজরুল সমর্থন। ডিসেম্বর মাসে নজরুলের রংপুর ও রাজশাহি সফর।

কলকাতা ‘নিখিল ভারত কৃষক ও শ্রমিক দল’এর সম্মেলনে যোগদান। নেহেরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কলকাতায় ‘নিখিল ভারত সোশিয়ালিস্ট যুবক কংগ্রেসের অধিবেশন’এ যোগদান, কবি গোলাম মোস্তফার নজরুল—বিরোধিতা।
ডিসেম্বরের শেষে কৃষ্ণনগর থেকে নজরুলের কলকাতা প্রত্যাবর্তন, ‘সওগাত’এ যোগদান। প্রথমে ১১নং ওয়েলেস্লি স্ট্রিটে ‘সওগাত’ অফিস—সংলগড়ব ভাড়া বাড়িতে ও পরে ৮/১ পানবাগান লেনে ভাড়া বাড়িতে বসবাস। নজরুলের সঙ্গে গ্রামোফোন কোম্পানির যোগাযোগ।

 

১৯২৯ সালে নজরুল

১৫ ডিসেম্বর এলবার্ট হলে নজরুলকে জাতীয় সংবর্ধনা প্রদান, উদ্যোক্তা ‘সওগাত’ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, হবীবুল্লাহ্্ বাহার প্রমুখ। সংবর্ধনা সভায় সভাপতি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রধান অতিথি সুভাষচন্দ্র বসু।

 

১৯৩০ সালে নজরুল

‘প্রলয়—শিখা’ প্রকাশ ও কবির বিরুদ্ধে মামলা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড। কিন্তু গান্ধি—আরউইন চুক্তির ফলে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ফলে কারাবাস থেকে মুক্তি। কবির প্রিয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যু।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯৩১ সালে নজরুল

সিনেমা ও মঞ্চ—জগতের সঙ্গে যোগাযোগ।

‘আলেয়া’ গীতিনাট্য রঙ্গমঞ্চে মঞ্চস্থ। নজরুলের অভিনয়ে অংশগ্রহণ। গ্রীষ্মে ‘বর্ষবাণী’ সম্পাদিকা জাহান আরা চৌধুরীর সঙ্গে দার্জিলিং ভ্রমণ ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

 

১৯৩২ সালে নজরুল

নভেম্বরে সিরাজগঞ্জে ‘বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মেলনে’ সভাপতিত্ব।

ডিসেম্বরে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের’ পঞ্চম অধিবেশনে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন।

 

১৯৩৪ সালে নজরুল

‘ধ্রুব’ চিত্রে নারদের ভূমিকায় অভিনয় ও সংগীত পরিচালনা। গ্রামোফোন রেকর্ডের দোকান ‘কলগীতি’ প্রতিষ্ঠা।

 

১৯৩৬ সালে নজরুল

ফরিদপুর ‘মুসলিম স্টুডেন্টস্্ ফেডারেশনের কনফারেন্সে’ সভাপতিত্ব।

১৯৩৮ সালে নজরুল

এপ্রিলে, কলকাতায় ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনে’ কাব্য শাখার সভাপতিত্ব।
ছায়াচিত্র ‘বিদ্যাপতি’র কাহিনী রচনা।

 

১৯৩৯ সালে নজরুল

ছায়াচিত্র ‘সাপুড়ে’র কাহিনী রচনা।

 

১৯৪০ সালে নজরুল

কলকাতা বেতারে ‘হারামণি’, ‘নবরাগ মালিকা’ প্রভৃতি নিয়মিত সংগীত অনুষ্ঠান প্রচার। অনুষ্ঠান দুটির বৈশিষ্ট্য হলো লুপ্ত রাগ—রাগিণীর উদ্ধার ও নবরাগের প্রচার।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

প্রমীলা নজরুলের পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত।

 

১৯৪১ সালে নজরুল

মার্চে, বনগাঁ সাহিত্য—সভার চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব।

অক্টোবর মাসে, নব পর্যায়ে প্রকাশিত ‘নবযুগে’র প্রধান সম্পাদক নিযুক্ত। ডিসেম্বরে কলকাতা মুসলিম ছাত্র সম্মেলনে ভাষণ।

৫ই ও ৬ই এপ্রিল নজরুলের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র রজত জুবিলি উৎসবে সভাপতিরূপে জীবনের শেষ ভাষণ দান, ‘যদি আর বাঁশি না বাজে’।

 

১৯৪২ সালে নজরুল

১০ই জুলাই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। ১৯শে জুলাই, কবি জুলফিকার হায়দারের চেষ্টায়, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আর্থিক সহায়তায় নজরুলের বায়ু পরিবর্তনের জন্য ডা. সরকারের সঙ্গে মধুপুর গমন। মধুপুরে অবস্থার অবনতি। ২১শে সেপ্টেম্বর মধুপুর থেকে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন।

অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ডা. গিরীন্দ্রশেখর বসুর ‘লুম্বিনি পার্কে’ চিকিৎসার জন্য ভর্তি। অবস্থার উনড়বতি না ঘটায় তিন মাস পর বাড়িতে প্রত্যাবর্তন। কলকাতায় নজরুল সাহায্য কমিটি গঠন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ : ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

যুগ্ম—সম্পাদক :

  • সজনীকান্ত দাস
  • জুলফিকার হায়দার

কার্যনির্বাহী কমিটির সভ্য:

  • এ. এফ. রহমান
  • তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  • বিমলানন্দ তর্কতীর্থ
  • সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার
  • তুষারকান্তি ঘোষ
  • চপলাকান্ত ভট্টাচার্য
  • সৈয়দ বদরুদ্দোজা
  • গোপাল হালদার।

এই সাহয্য কমিটি কর্তৃক পাঁচ মাস কবিকে মাসিক দুইশত টাকা করে সাহায্য প্রদান।

 

১৯৪৪ সালে নজরুল

বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকার ‘নজরুল—সংখ্যা’ (কার্তিক—পৌষ ১৩৫১ বঙ্গাব্দ) প্রকাশ।

 

১৯৪৫ সালে নজরুল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নজরুলকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ প্রদান।

 

১৯৪৬ সালে নজরুল

নজরুল পরিবারের অভিভাবিকা নজরুলের শাশুড়ি গিরিবালা দেবী নিরুদ্দেশ। নজরুলের সৃষ্টিকর্ম মূল্যায়নে প্রথম গ্রন্থ কাজী আবদুল ওদুদ কৃত ‘নজরুল—প্রতিভা’ প্রকাশ। গ্রন্থের পরিশিষ্টে কবি আবদুল কাদির প্রণীত নজরুল—জীবনীর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা সংযোজিত।

 

১৯৫২ সালে নজরুল

‘নজরুল নিরাময় সমিতি’ গঠন। সম্পাদক কাজী আবদুল ওদুদ। জুলাই মাসে নজরুল ও তাঁর পতড়বীকে রাঁচি মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ। চার মাস চিকিৎসা, সুফলের অভাবে কলকাতা আনয়ন।

 

১৯৫৩ সালে নজরুল

মে মাসে কবি ও কবিপতড়বীকে চিকিৎসার জন্যে লন্ডন প্রেরণ করা হয়। ‘জল আজাদ’ নামক জাহাজে লন্ডন যাত্রার আগে কবি ও কবি—পত্মী বোম্বাইয়ের (বর্তমানে মুম্বাই) মেরিন ড্রাইভের ‘সি গ্রিন হোটেল’—এ অবস্থান করেন। ঐ হোটেলের সভাকক্ষে নজরুলের সম্মানে এক বিরাট সংবর্ধনা—সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের বহু খ্যাতনামা চলচ্চিত্র—শিল্পী, কবি—সাহিত্যিক ও সংগীতজ্ঞ।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

অশোককুমার, প্রদীপকুমার, কে. এস. ইউসুফ, কামাল আমরোহী, কে. এ. আব্বাস, মুকেশ, নৌশাদ আলী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যোশ মালিহাবাদী, কাইফি আজমী, খৈয়াম, সাহীর লুধিয়ানভী, মাজাজ লাখনভী, কাতিল সিপাহী, ফিরাক গোরকপুরী, ফয়েজ আহমদ ফয়েজ। নজরুল—বন্দনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কাইফী আজমী ও শাতীর লুধিয়ানভী। নজরুলের ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’ গানটি পরিবেশন করেন হেমন্তকুমার মুখোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানে কবির চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা তুলে একটি থলিতে কবির হাতে প্রদান করা হয়। এই সংবর্ধনা—অনুষ্ঠানে নজরুল—জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। [তথ্যসূত্র : ‘নজরুল—স্মৃতি’, ড. অশোক বাগচী, নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, জুন ১৯৯৫]। লন্ডনে মানসিক চিকিৎসক উইলিয়ম স্যারগন্ট, ই.এ. বেটন, ম্যাকসিক্্ ও রাসেল ব্রেনের মধ্যে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যাপারে মতভেদ, ডিসেম্বর মাসে নজরুলকে ভিয়েনাতে প্রেরণ।

ভিয়েনায় বিখ্যাত ¯ড়বায়ুচিকিৎসক ডা. হ্যান্স হফ্্ কর্তৃক স্যারিব্রেল অ্যানজিওগ্রাফি পরীক্ষার ফল, নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ নামে মস্তিষ্ক রোগে আক্রান্ত এবং তা চিকিৎসার রাইরে। ডিসেম্বর মাসে নজরুল ও তাঁর পতড়বীকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

 

১৯৬০ সালে নজরুল

ভারত সরকার কর্তৃক নজরুলকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি দান।

 

১৯৬২ সালে নজরুল

৩০শে জুন নজরুল—পতড়বী প্রমীলা নজরুলের দীর্ঘ রোগ ভোগের পর পরলোক গমন। প্রমীলা নজরুলকে চুরুলিয়ায় দাফন। নজরুলের দুই পুত্র কাজী সব্যসাচী ইসলাম ও কাজী অনিরুদ্ধ ইসলামের জন্ম ও মৃত্যু যথাক্রমে ১৯২৯ ও ১৯৭৪ এবং ১৯৩১ ও ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে।

 

১৯৬৬ সালে নজরুল

কবি আবদুল কাদিরের সম্পাদনায় ঢাকায় ‘কেন্দ্রীয় বাংলা উনড়বয়ন বোর্ড’ কতৃর্ক ‘নজরুল—রচনাবলী’ প্রথম খণ্ড প্রকাশিত।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯৬৯ সালে নজরুল

সম্বিতহারা কবির অসুস্থতার সত্তর বৎসর পূর্ণ এবং সর্বত্র কবি কাজী নজরুল ইসলামের সপ্ততিতম জন্মবার্ষিকী উদ্্যাপন। কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডি. লিট. উপাধি প্রদান।

 

১৯৭১ সালে নজরুল

২৫শে মে নজরুল জন্মবার্ষিকীর দিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিচালক প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক নব পর্যায়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচার শুরু।

 

১৯৭২ সালে নজরুল

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নজরুল—জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে নজরুলকে সপরিবারে ঢাকায় অনয়ন, ধানমন্ডিতে কবিভবনে অবস্থান এবং সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড্ডীন। স্বাধীন
বাংলাদেশে কবির প্রথম জন্মবার্ষিকী কবিকে নিয়ে উদ্্যাপন। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কবিভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

১৯৭৪ সালে নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডি. লিট. উপাধি প্রদান।

 

১৯৭৫ সালে নজরুল

২২শে জুলাই কবিকে পি.জি. হাসপাতালে স্থানান্তর, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে আগস্ট মোট এক বছর এক মাস আট দিন পি.জি. হাসপাতালের ১৯৭নং কেবিনে নিঃসঙ্গ জীবন।

 

১৯৭৬ সালে নজরুল

২১শে ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘একুশে পদক’ প্রচলন ও নজরুলকে পদক প্রদান।
ঐ বছরেই আগস্ট মাসে কবির স্বাস্থ্যের অবনতি। ২৭শে আগস্ট শুক্রবার বিকেল থেকে কবির শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তিনি ব্রঙ্কোনিমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। ২৯শে আগস্ট রবিবার সকালে কবির দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫ ডিগ্রি অতিক্রম করে যায়। কবিকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং সাক্্শানের সাহায্যে কবির ফুসফুস থেকে কফ ও কাশি বের করার চেষ্টা চলে। কিন্তু চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও কবির অবস্থার উনড়বতি হয় নাÑসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

১২ই ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কবি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে কবির মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হলে পি.জি. হাসপাতালে শোকহত মানুষের ঢল নামে। কবির মরদেহ প্রথমে পি.জি. হাসপাতালের গাড়ি বারান্দার ওপর, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টি.এস.টি’র সামনে রাখা হয়। অবিরাম জনস্রোত কবির মরদেহে পুষ্প দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]
কাজী নজরুল ইসলাম [ Kazi Nazrul Islam ]

কবির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাদ আসর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ শামিল হন। নামাজে জানাজা শেষে শোভাযাত্রা সহযোগে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা শোভিত মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

কবির মরদেহ বহন করেন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম. এইচ. খান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ. জি. মাহমুদ, বি.ডি.আর. প্রধান মেজর জেনারেল দস্তগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। পরবর্তীকালে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করা হয় ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৯৮—২০০০ খ্রিস্টাব্দ বিশ্বব্যাপি মহাসমারোহে নজরুল—জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।

আরও পড়ুন:

This post is also available in: বাংলাদেশ English