খুলনা জেলা সম্পর্কে জানুন [ Learn more about Khulna District ]

This post is also available in: বাংলাদেশ

খুলনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম জেলা। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে খুলনা পৃথক জেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পূর্বে এটি যশোরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রাচীনকালে এ এলাকা ছিল ঘন বনাচ্ছাদিত। বন কেটে এতদাঞ্চলের বসতি গড়ে উঠেছে। অসংখ্য নদী ও খালবেষ্টিত খুলনার অধিকাংশ এলাকা দ্বীপাঞ্চল সদৃশ।

Khulna District Logo, খুলনা জেলার লোগো, বাঘের গর্জন, সমৃদ্ধি ও অর্জন
Khulna District, খুলনা জেলা, বাঘের গর্জন, সমৃদ্ধি ও অর্জন

 

খুলনা জেলার নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা :

এখানকার জনজীবন ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের অন্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। নদ-নদী ও খালের প্রভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ এককালে ছিল মৎস্যজীবী ও নৌকাজীবী। এখনও সেই ঐতিহ্য ভিন্নভাবে প্রবহমান। এখানকার কৃষিভূমি বর্তমানে সাদা মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি সম্পদে খুলনা জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য।

খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম জেলা। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে খুলনা পৃথক জেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পূর্বে এটি যশোরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রাচীনকালে এ এলাকা ছিল ঘন বনাচ্ছাদিত। বন কেটে এতদাঞ্চলের বসতি গড়ে উঠেছে। অসংখ্য নদী ও খালবেষ্টিত খুলনার অধিকাংশ এলাকা দ্বীপাঞ্চল সদৃশ।

এখানকার জনজীবন ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের অন্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। নদ-নদী ও খালের প্রভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ এককালে ছিল মৎস্যজীবী ও নৌকাজীবী। এখনও সেই ঐতিহ্য ভিন্নভাবে প্রবহমান। এখানকার কৃষিভূমি বর্তমানে সাদা মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি সম্পদে খুলনা জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য।

খুলনার নামকরণ নিয়ে নানা কথা প্রচলিত। কারো মতে, খুলনা এসেছে ‘খুল্লনাবা’ শব্দ থেকে। অর্থ ক্ষুদ্র নৌকা বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৌকা ভাসে এমন স্থান। খুলনা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে কিছু কিছু কিংবদন্তিও চালু রয়েছে। ধনপতি সওদাগর ও তাঁর স্ত্রী-লহনা ও খুলনা। এর মধ্যে খুল্লনা খুব ধর্মপরায়ণা ছিলেন। তার জন্য ধনপতি সওদাগর একটি কালী মন্দির নির্মাণ করে দেন।

খুল্লনার নামানুসারে এ মন্দিরের নাম হয় খুল্লনেশ্বরী কালী মন্দির। এ মন্দির ছিল রূপসার পূর্বতীরে, অল্প দূরে। আজ সে কালী মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই মন্দিরের নামানুসারে খুলনা নামের উৎপত্তি। অনেকের মতে দেবী কর্তৃক উচ্চারিত ‘খোলানা’ সতর্কবাণী থেকে খুলনা শব্দটি এসেছে।

ঐ সময় মৈয়ার গাঙ বা ময়ুর নদীতে সুন্দরবনের কাজ করতে যাওয়া বাওয়ালীদের অনেক নৌকা বাধা থাকতো। সেসব বাওয়ালী গভীর রাতে নৌকা খুলতে উদ্যত হলে বিপদাশংকা টের পেলে বনের দেবী বনবিবি তাদেরকে ‘খোলনা’ বলে নৌকা ছাড়তে নিষেধ করতেন। এই ‘খোলনা’ থেকেই খুলনা শব্দটি এসেছে।

Nagar Bhaban Khulna, খুলনা নগর ভবন

 

কারো মতে মুসলমান আমলের প্রথম দিকে সাগর পথে আরব বণিকেরা এখানে প্রবেশ করে বলতো- ‘আদ খোলনা’। এই ‘আদ খোলনা’ থেকে খুলনা শব্দের উৎপত্তি। খুলনা নামের উৎপত্তির বিষয়ে আরও একটি সূত্র পাওয়া যায় ১৭৬৬ সালে পশুর নদীর দক্ষিণভাগে নিমজ্জিত ফলমাউথ নামক একটি জাহাজের নাবিকদের রেকর্ডপত্র থেকে। সেখানে খুলনাকে ‘কালনিয়া’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইংরেজ আমলের মানচিত্রে যশোর খুলনা যশোর কালনা’ (Jessore-Culna) বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। এ থেকে বলা যায় যে ইংরেজ আমলের রেকর্ড ও মানচিত্রে Culna বা কালনা শব্দটি ছিল এবং ঐ রেকর্ডের নামানুসারে নতুন থানার নামকরণ করা হয় খুলনা থানা। উল্লেখযোগ্য যে খুলনা মৌজা কিসমত খুলনা নামে রেকর্ডকৃত।

এই জেলার প্রশাসনিক কাঠামো একটি সিটি কর্পোরেশন ও নয়টি উপজেলা নিয়ে। গঠিত। ১৮৮৪ সালে প্রথম খুলনা পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে এটি সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। খুলনা শহরকে ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই মেট্রোপলিটন শহরে উন্নীত করা হয়। উপজেলাসমূহ- বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া, কয়রা, পাইকগাছা, ফুলতলা, রূপসা ও তেরখাদা। আর মেট্রোপলিটন শহরের অধীনস্থ থানাসমূহ খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী।

 

খুলনা জেলার ভৌগোলিক অবস্থান :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা বিভাগের প্রধান জেলা খুলনা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বঙ্গোপসাগরের কূল জুড়ে এর অবস্থান। পূর্বে বাগেরহাট, উত্তরে যশোর ও নড়াইল, পশ্চিমে সাতক্ষীরা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন। জেলার আকার লম্বা ও চৌকো আকৃতির। এর উত্তরে অক্ষরেখা ২২০.৪৭ এবং ২১০.৪০ এবং পূর্ব দ্রাঘিমা ৮১০ ও ১০০।

জেলার বাৎসরিক উষ্ণতা সর্বনিম্ন ৫৩° ফারেনহাইট এবং সর্বোচ্চ উষ্ণতা ৯৭° ফারেনহাইট। জানুয়ারি মাসে ৫৩° ফারেনহাইট ও এপ্রিল মাসে ৯৭০ ফারেনহাইট এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৭৯° ফারেনহাইট থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬০। জেলার আবহাওয়া আদ্র। শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রার তারতম্য কম। বৃষ্টিপাত বেশি এবং দক্ষিণাঞ্চলে সুন্দরবনের অবস্থানের কারণে মৌসুমী জলীয় বাষ্প উভয় মৌসুমেই প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

 

খুলনা জেলার জনবসতির পরিচয় :

এ-অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সুদূর অতীতে প্রসারিত। সমুদ্র গর্ভ থেকে অপেক্ষাকৃত পরে উত্থিত হলেও উপমহাদেশের অনেক স্থানের মতো এখানেও প্রাচীনকালে জনবসতি গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এরপর ধীরে ধীরে সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং রাজনৈতিক বিকাশের সাথে সাথে এটা সারা দেশের বৃহত্তর জনপদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। খুলনা জেলার প্রাচীন নাম বুড়ন দ্বীপ। গঙ্গা নদীর শাখা হলদিনীর মোহনায় এ-দ্বীপের সৃষ্টি বলে ধারণা করা হয়।

 

Khan Jahan Ali Bridge, Khulna , খান জাহান আলী সেতু, খুলনা
Khan Jahan Ali Bridge, Khulna , খান জাহান আলী সেতু, খুলনা

 

মহাভারতে বর্ণিত গঙ্গার পূর্বগামী শাখা হলদিনী, টলেমি বর্ণিত কামবেরীঘন তথা কপোতাক্ষ, ভৈরব, মধুমতির পলল দ্বারা গঠিত খুলনা। তৎকালের কামবেরীঘন বর্তমানের কপোতাক্ষ নদী। কুমার, ভৈরব, বেত্রবতী ও প্রাচীন হলদিনী বা কামবেরীঘনের শাখা-প্রশাখা। প্রাগৈতিহাসিক কালে ভৈরব কামবেরীঘন ও বেত্রবতীর তীরে তীরে জনবসতি গড়ে ওঠে।

অস্ট্রিক, মঙ্গোলীয়, আলপাইন প্রভৃতি গোষ্ঠীর মানুষ এ-এলাকার আদি বাসিন্দা। সুদূর প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এ অঞ্চলে এসব জনগোষ্ঠীর মিলন-মিশ্রণের মাধ্যমে এক স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠীর সূচনা হয়। চতুর্থ শতকে খুলনা নাব্যাবকাশিকা ভুক্তির এবং নব্যমণ্ডলের অন্তর্গত ছিল। সপ্তম শতকে শশাংক ভদ্রবংশ খড়গোরাত ও লোকনাথ বংশ এ অঞ্চল শাসন করে।

অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত বুড়ন দ্বীপ শাসন করে পাল রাজারা। তাদের শাসনামলে বৌদ্ধ সভ্যতা, সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটে। পাল আমলে পূর্ববঙ্গের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো খুলনার জনসমাজও বৌদ্ধ ধর্ম দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। সেন আমলে আবার হিন্দু সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ দেখা যায়। এরপর মুসলমান বিজয়।

 

খুলনা জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

সিটি কর্পোরেশন

বর্তমান খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও তার আওতায় ওয়ার্ডগুলোর পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট ইতিহাস।

থানা/ উপজেলা পরিচিতি:

দৌলতপুর থানা, খুলনা

দীঘলিয়া উপজেলা, খুলনা

 

আরও পড়ুন:

This post is also available in: বাংলাদেশ