নুরুল ইসলাম মনি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

নুরুল ইসলাম মনি একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মোট তিন বার বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ- সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের একাদশ সাধারণ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী -দল (বিএনপি) থেকে প্রার্থী মনোনীত হন।

নুরুল ইসলাম মনি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

নুরুল ইসলাম মনি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও শৈশব

নুরুল-ইসলাম মনি ১৯৫২ সালে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মনিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি পাস করেন। পরের বছর ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস সহ পাস করেন।

রাজনৈতিক জীবন

নুরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালের ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। পরে এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯০ সালে সংসদ ভেঙে যায়। পরে ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম মনি আবারো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

তিনি সে নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতিও নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারির ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। পরে ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন।

 

নুরুল ইসলাম মনি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সমালোচনা

২০০৭ সালে বরগুনা জেলা আদালত তাকে গ্রাফট মামলায় ১৪ বছরের কারাদন্ড দিয়েছিল।

বাংলাদেশ -জাতীয়তাবাদী দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

 

নুরুল ইসলাম মনি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন