বটিয়াঘাটা উপজেলা, খুলনা

This post is also available in: বাংলাদেশ

বটিয়াঘাটা উপজেলা : আয়তন ২৪৮.৩৩ বর্গ কি.মি। উত্তরে কোেতায়ালী থানা, ডুমুরিয়া ও রূপসা উপজেলা এবং সোনাডাঙ্গা থানা, দক্ষিণে দাকোপ, পাইকগাছা ও রামপাল উপজেলা, পূর্বে রামপাল, ফকিরহাট ও রূপসা উপজেলা, পশ্চিমে ডুমুরিয়া এবং পাইকগাছা উপজেলা। উল্লেখযোগ্য নদী হলো কাজিবাহা, শৈলমারী, সালতা, ঝপঝপিয়া, পশুর, শিবসা ও নালুয়া।

বটিয়াঘাটা খুলনা জেলার একটি থানা যা ১৮৯২ সালে অবস্থিত । জানা যায়, ১৯৬০ সালে নৌ-পুলিশ ক্যাম্প ছিল । পরে ১৮৯২ সালে পুলিশ ক্যাম্পটি থানায় রুপান্তরিত হয় । সাধারণভাবে জানা যায় যে, খুলনা থেকে কলকাতায় স্টীমার যোগে যাওয়ার পথে বটিয়াঘাটায় একটি ঘাট ছিল এবং সুন্দরবন এলাকার অন্তর্ভূক্ত ছিল । সুন্দরবনের সুন্দরী কাঠের তৈরি বৈঠা বিক্রি করার জন্য বিখ্যাত ছিল এই বটিয়াঘাটা । পরবর্তীতে ঐ নাম অনুসারে বৈঠাঘাটা নামকরণ হয় । যার পরবর্তী নাম হয় বটিয়াঘাটা ।

বটিয়াঘাটা উপজেলা, খুলনা

 

বটিয়াঘাটা উপজেলা শহর :

আয়তন ৮.৩ বর্গ কি.মি। জনসংখ্যা ৬২২৪; পুরুষ ৫২.০৬%, মহিলা ৪৭.৯৪%। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি ৭৫০ জন। শিক্ষর হার ৪৫.২%। প্রশাসন : বটিয়াঘাটা থানা সৃষ্টি ১৮৬৩ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে। ইউনিয়ন ৭, মৌজা ১৫৮, গ্রাম ১২১।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি:

গল্লামারী ৭১ এর স্মৃতিসৌধ।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান:

মসজিদ ১১৬, মাজার ১, মন্দির/পূজামণ্ডপ ৮২, গির্জা ১। জনসংখ্যা ১২৮১৮৪; পুরুষ ৫১.০৭%, মহিলা ৪৮.৯৩%। মুসলমান ৫০.৯১%, হিন্দু ৪৯.০৩%, অন্যান্য ০.০৬%।

শিক্ষার হার :

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৭.৭%; পুরুষ ৪৬%, মহিলা ২৯%। বিশ্ববিদ্যালয় ১, কলেজ ৪, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৬, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৭, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪৪, মাদ্রাসা ৪। উল্লেখযোগ্য: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বটিয়াঘাটা কলেজ (১৯৭৩), চক্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৫৭), বয়ারভাঙ্গা বিশ্বম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৪৫), বটিয়াঘাটা হেড কোয়ার্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৭৩)।

Gurukul Live Logo

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী :

মাসিক উপজেলা দর্পণ (বিলুপ্ত সাময়িকী)

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান :

ক্লাব ২০, পাবলিক লাইব্রেরি ২, মহিলা সংগঠন ১। জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশাসমূহ : কৃষি ৪২.৯৪%, কৃষি শ্রমিক ১৯.৬৭%, অকৃষি শ্রমিক ৬.৩৫%, মৎস্য ১.৬৪%, ব্যবসা ১০.৫৩%, পরিবহন ২.২২%, নির্মাণ ১.০৬%, চাকরি ৪.৮৫%, অন্যান্য ১০.৭৪%।

ভূমি ব্যবহার :

আবাদি জমি ১৮৪৯৪.৫৩ হেক্টর, পতিত জমি ৬০.৭০ হেক্টর। এক ফসলি ৮৭.৭৪%, দো ফসলি ১১.২৭%, তিন ফসলি ০.৯৯%। মাথাপিছু আবাদি জমি ০.১৫ হেক্টর।

ভূমি নিয়ন্ত্রণ :

ভূমিহীন ৩২%, উচ্চবিত্ত চাষি ৩০%, মধ্যম চাষি ২৫%, বড় চাষি ১৩%। জমির মূল্য প্রথম শ্রেণির আবাদি জমির মূল্য হেক্টর প্রতি ৫০০০ টাকা। প্রধান কৃষি ফসল: ধান, তিল, তৈলবীজ, পিঁয়াজ, রসুন। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসল পাট। প্রধান ফল-ফলাদি আম, নারিকেল, সুপারি।

মৎস্য, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির খামার:

মৎস্য ৬৪৪, গলদা চিংড়ি ঘের ৫০১, বাগদা চিংড়ি ঘের ১৪৩, গবাদি পশু ১৯, হ্যাচারি ১, হাঁস-মুরগি ৪৮। যোগাযোগ : পাকা রাস্তা ৩৭ কিমি, আধা-পাকা রাস্তা ৪২ কিমি, কাঁচা রাস্তা ২৫৪ কিমি, বেড়ি বাঁধ ৬৩ কিমি।

শিল্প ও কলকারখানা :

ধানকল ৪৭, বরফকল ৩, সামিল ৮।

কুটিরশিল্প :

তাঁত ৫, কামার ১৪, কুমার ৭৬, স্বর্ণকার ২০।

হাটবাজার ও মেলা:

হাটবাজার ২৬। উল্লেখযোগ্য হাটবাজার হাটবাড়ি, বারোয়াড়িয়া ও কৈয়া হাট। প্রধান রপ্তানি দ্রব্য : গলদা ও বাগদা চিংড়ি।

এনজিও কার্যক্রম :

আশা, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, প্রশিকা, জাগ্রত যুব সংঘ, রূপান্তর।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র :

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৫, পশু হাসপাতাল

আরও পড়ুন:

খুলনা জেলার নদ নদী

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন