বাঘ ও বনকুমারী – খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

This post is also available in: বাংলাদেশ

বাঘ ও বনকুমারী : এক বনে বাস কোততো এক কাঠুরে দম্পতি। কাঠুরে সমস্ত দিন কাট কাটে বিকেলে তা হাটে বিক্রি করে ঘরে ফিরত। এই করেই তারগে দুজনের সংসার চলতো, একদিন তারগে সংসারে এল কন্যা সন্তান। কন্যা সন্তানকে ঘিরে তাদের যতো আনন্দ। কিন্তু কাঠুরিয়াকে একদিন বাঘে খেয়ে ফেলে। আর এদিকে স্বামী শোকে কাঠুরিয়ার স্ত্রী তার নবজাতক মেয়েকে রেখে মারা গেলো।

বাঘ ও বনকুমারী - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

 

কাঠুরিয়ার মেয়ে ছিলো সোনার মতো সুন্দর। তার আলোয় জঙ্গল আলোকিত হয়ে ওঠে। মা মারা যাওয়ায় মেয়ে বাচ্চাটি কান্নাকাটি করতে থাকে। ঐ বনের পশুপাখির রাজা ছিল একটি ভয়ংকর বাঘ। বাঘটি একদিন শিকার করতে করতে কাঠুরিয়ার কুটিরে এসে উপস্থিত হয়। বাচ্চার কান্না শুনে বাঘটি আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে দেখে একটি মানব সন্তান কান্নাকাটি করছে।

বাঘের মনে দয়া সঞ্চার হলো। বাঘটি বাচ্চাটিকে না খেয়ে তাকে নিয়ে গেলো তার ডেরায়। বাঘ বনের রাজা হওয়ায় অন্যপশুরাও বাচ্চার দিকে লোভের দৃষ্টিতে তাকাতে সাহস পেত না। সবাই তাকে আদর করত। বনের পশুদের আদর-যত্নে বনকুমারী ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠল। সারা বনের মাঝে সে ছুটাছুটি করত।

 

Khulna District Logo, খুলনা জেলার লোগো, বাঘের গর্জন, সমৃদ্ধি ও অর্জন
Khulna District, খুলনা জেলা, বাঘের গর্জন, সমৃদ্ধি ও অর্জন

 

একদিন সেই বনে এক রাজকুমার আসলো শিকার করতে। শিকার করতে করতে হঠাৎ তার বনকুমারীর সাথে সাক্ষাৎ, বনকুমারীর রূপে রাজকুমার মোহিত হয়ে গেলো। রাজকুমার বনকুমারীর প্রেমে পড়ল। সে বনকুমারীকে বললো, আমি তোমাকে বিয়ে করে আমার রাজ্যে নিয়ে যাব।

বনকুমারীও রাজকুমারের গুণে-রূপে মুগ্ধ হয়ে বললো আমিও চাই তুমি আমাকে উদ্ধার করে এখান থেকে নিয়ে যাও। কিন্তু বনের রাজা বাঘ যদি জানতে পারে তবে সে আমাকে হত্যা করবে। তারপর তোমাকেও। রাজকুমার বললো, আমি তোমাকে এখনই বিয়ে করে নিয়ে যাব। আর তখনই রাজকুমার বনকুমারীকে বিয়ে করে তার রাজ্যে নিয়ে আসলো। বনকুমারীকে দেখে সবার পচ্ছন্দ হলো।

[ বাঘ ও বনকুমারী – খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা ]

 

এদিকে বনের রাজা বাঘ বনকুমারীকে খোঁজ করে না পেয়ে রাগে গরগর করতে থাকে। সে বনকুমারীকে খোঁজ করতে করতে রাজকুমারের রাজ্যে এসে পড়ল। এসে সে সুযোগ খুঁজতে থাকে বনকুমারীকে হত্যা করার জন্য। কিন্তু সুযোগ সে পায় না। তাই প্রতিদিন সে রাজ্যের একটি করে লোক খেয়ে ফেলে। রাজ্যের মানুষ বাঘের ভয়ে তটস্থ। তারা সবাই এসে রাজকুমারকে বললো, আমরাতো সবাই মারা গেলাম। এর একটা বিহিত করেন।

 

রুপকথা রাজকুমার 2 বাঘ ও বনকুমারী - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

 

রাজকুমার তখন গেলো বাঘের সাথে দেখা করতে। বাঘকে গিয়ে বললো, তুমি কি চাও? বাঘ বললো আমি বনকুমারীকে খেতে চাই। রাজকুমার রাজি হয়ে বললো ঠিক আছে। তাই হবে। তুমি আর কাউকে খাবে না। আগামীকাল রাজমহলে এসে বনকুমারীকে খাবে। রাজকুমার গৃহে ফিরে কৌশল আটতে থাকলো কি করা যায়।

অবশেষে সবাই মিলে বুদ্ধি করল। বনকুমারীর মতো দেখতে একটা মূর্তি বানাতে হবে গুড় আর চিড়া দিয়ে। যে কথা সেই কাজ। গুড় আর চিড়া দিয়ে বনকুমারীর মতো একটি মানুষ বানানো হলো। সেটিকে একটি দেয়ালের সামনে রাখা হলো। দেয়ালটি মিথ্যা কাগজের। দেয়ালের ওপাশে বানানো হলো দগদগে আগুন। বাঘটি মূর্তিটির ওপর ঝাপিয়ে পড়বে এবং মূর্তিটি খাওয়া হলে তাকে পেছন থেকে তাড়া করা হবে।

আর বাঘ সামনের দিকে ঝাঁপ দিলে আগুনের মধ্যে পড়ে মারা যাবে। পরদিন বাঘ ঠিকই সময়মতো চলে আসলো। বাঘ সামনে রাখা চিড়া-গুড়ের মূর্তি দেখে বনকুমারী মনে করে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাকে কামড়াতে থাকলো। একপর্যায়ে রাজ্যের সৈন্যরা বাঘটিকে তাড়া করলো। আর বাঘটি বনকুমারী মারা গেছে মনে করে সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর তহনই সে মিথ্যা দেয়াল ভাঙে আগুনের মধ্যি পড়ে মারা গেলো। আর রাজকুমার বনকুমারীকে নিয়ে সুহি শান্তিতি দিন কাটাতি থাকলো।

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই স্থানীয় ভাষায় কিছু রুপকথা বা লোককাহিনী রয়েছে। লোককাহিনীগুলো বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে ওই এলাকার ভূ-প্রকৃতির উপরে ভিত্তি করেই সেসব লোককাহিনী তৈরি হয়েছে। সেসব লোককাহিনীর মাধ্যমে গল্পকাররা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু বার্তাও দিতে চেয়েছেন। তাই আমরা এই ধরণের গল্পের একটা সংগ্রহশালা তৈরির চেষ্টা করছি।

খুলনা জেলার এসব গল্প আরও পড়ুন:

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন