বি এম এম ফয়জুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

বি এম এম ফয়জুর রহমান (১৯৩০-৩০ অক্টোবর ২০১২) ছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং গণপরিষদ সদস্য।

বি এম এম ফয়জুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

বি এম এম ফয়জুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রারম্ভিক জীবন

বি এম ফয়েজুর রহমান চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী মুসলিম লীগ পরিবারের সন্তান। তৎকালীন চট্টগ্রাম মেডিকেল স্কুল থেকে এল এম এফ ডিগ্রী নিয়ে তিনি ডাক্তারি পাশ করেন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল স্কুল নামে ছিল।

রাজনৈতিক জীবন

বি এম ফয়েজুর রহমান চট্টগ্রাম জেলার একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম এ আজিজের পরামর্শক্রমে মুসলিম লীগ পরিবারের সন্তান ডাঃ ফয়েজকে সাতকানিয়া (আংশিক) ও পটিয়া(আংশিক) চট্টগ্রাম-১৩ বর্তমান চন্দনাইশ নির্বাচনী এলাকা থেকে ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এম পি এ পদে মনােনয়ন দেয়া হয়। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন এবং তৎকালীন পি-ই-২৯৩ তথা চট্টগ্রাম-১৩ (সাতকানিয়া ও পটিয়ার অংশ) এর হয়ে প্রাদেশিক পরিষদের এম.পি.এ নির্বাচিত হন।

এছাড়াও ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ১৯৬৮-১৯৬৯ পর্যন্ত কাঞ্চনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু

তিনি ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

 

বি এম এম ফয়জুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সংসদ সদস্য

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

বি এম এম ফয়জুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন।

দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন। সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন