ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

This post is also available in: বাংলাদেশ

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান, ব্যাটারদেরন ব্যাটিং দৃঢ়তায় এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৩ রান করেছে গত দুই আসরের ফাইনালিষ্ট বাংলাদেশ। দলের পক্ষে আফিফ হোসেন ২২ বলে ৩৯, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৬ বলে ৩৮, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২২ বলে ২৭, সাকিব আল হাসান ২২ বলে ২৪ ও মোসাদ্দেক ৯ বলে অপরাজিত ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। এনামুল হক বিজয় , মোহাম্মদ নাইম ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ দেয়া হয় সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ ও নতুন মুখ এবাদত হোসেনকে।  আগের ম্যাচের দুই ওপেনার একাদশ থেকে বাদ পড়ায় এবার বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করেন মিরাজ ও সাব্বির। পরিসংখ্যান মতে  গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ১৩টি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নবম উদ্বোধনী জুটি এটি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগে কখনও ইনিংস ওপেন করেননি তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা সাব্বির। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একবারই ইনিংস শুরু করেন মিরাজ। গত ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লিটন দাসের সাথে ইনিংস শুরু করে ১২০ রানের জুটি গড়েছিলেন মিরাজ।ম্যাচে ৩২ রান করেছিলেন  মিরাজ।

 

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

এ ম্যাচের প্রথম বলে লেগ-বাই থেকে চার পায় বাংলাদেশ। পঞ্চম বলে ৩ রান নেন মিরাজ। আর শেষ বলে প্যাডল-স্কুপ শটে ফাইন লেগ দিয়ে চার মারেন সাব্বির। এতে প্রথম ওভার থেকে ১১ রান পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভার থেকে মাত্র ৩ রান আসে। আর তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বিদায় নেন সাব্বির। শ্রীলংকার হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পেসার আসিথা ফার্নান্দোর বলটি পুল শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৬ বলে ৫ রান করা সাব্বির।

দলীয় ১৯ রানে সাব্বির ফিরলেও, ভড়কে যাননি মিরাজ। চতুর্থ ওভারে ১টি ছক্কা, পঞ্চম ওভারে ১টি করে চার-ছয় মারেন তিনি। পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ পায় ১৮ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভার থেকে মিরাজের ১টি চারে ৮ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৫ রানে। এসময় ২টি করে চার-ছক্কায় ২৪ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন  মিরাজ।

 

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

পাওয়ার-প্লে শেষ হবার পরের ওভারেই বিদায় ঘটে মিরাজের। শ্রীলংকার স্পিনার হাসারাঙ্গা ডি সিলভার করা ঐ ওভারের পঞ্চম বলটি ছিলো গুগলি। তাতে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হলে  ২৬ বল খেলে ২টি করে চার-ছক্কায় টি-টোয়েন্টি  ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করা  মিরাজ বিদায় ঘটে।দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সাকিবের সাথে ২৪ বলে ৩৯ রান তুলেন মিরাজ। জুটিতে ১৫ বলে ২৮ রান করেন মিরাজ।

মিরাজের আউটে ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলংকার পেসার চামিকা করুনারতেœ বাউন্সার সামলাতে না পেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৫ বলে ৪ রান করা মুশফিক। এতে ৮ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৬৩ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ৫ রানের ব্যবধানে মিরাজ ও মুশফিক ফিরলে, বাংলা-দেশের রান তোলার গতি কমে যাবার শংকা ছিলো। কিন্তু সেটি হতে দেননি সাকিব। চার বলের ব্যবধানে তিনটি চার মারেন তিনি। এরমধ্যে নবম ওভারের প্রথম দুই বলে স্কুপ শটে বাউন্ডারি আদায় করে সাকিব। ওভারের শেষ বলে চার মারেন আফিফ হোসেন।

 

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

তবে ১১তম ওভারে থামতে হয়ে সাকিবকে। শ্রীলংকার স্পিনার মহেশ থিকশানার মিডল-স্টাম্পের বলটি জায়গা করে কভার দিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাট-বলের সংযোগ করতে না পেরে বোল্ড হন সাকিব। ৩টি চারে ২২ বলে ২৪ রান করেন সাকিব। এই ইনিংস খেলার পথে টি-টোয়েন্টিতে ছয় হাজার রান পূর্ণ করেন সাকিব। ১১তম ওভারে দলীয় ৮৭ রানে ফিরেন সাকিব। এরপর বাংলা-দেশের রানের চাকা সচল রাখেন আফিফ। ১৩তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে ১টি করে চার-ছক্কা মারেন আফিফ। ঐ ওভারে বাংলা-দেশের স্কোর ১শতে পৌঁছায়।

আফিফ মারমুখী মেজাজে থাকলেও অন্যপ্রান্তে সাবধানী  ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১২ বল থেকে মাত্র ৮ রান নিতে পারেন রিয়াদ। অবশেষে ১৫তম ওভারে সাবধানতার খোলস থেকে বের হন মাহমুদুল্লাহ।  ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও পরের ডেলিভারিতে চার মারেন তিনি। তাতে ওভার থেকে ১৪ রান পায় বাংলা-দেশ। ১৬তম ওভারে মারমুখী মেজাজ অব্যাহত রাখেন আফিফ। তার ১টি করে চার-ছক্কায় ১৫ রান পায় বাংলা-দেশ। ফলে ১৬ ওভার শেষে বাংলা-দেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৩৮ রান। বাউন্ডারি দিয়ে ১৭তম ওভার শুরু করেছিলেন আফিফ। কিন্তু চতুর্থ বলটি লেগ সাইড দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। আফিফের দারুন ইনিংসটি থামে ৩৯ রানে। ২২ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন আফিফ।

 

ব্যাটারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৩ রান

 

আফিফ ফিরলেও বাংলা-দেশের রান সামনের দিকে টেনে নেয়া দায়িত্ব বর্তায় মাহমুদুল্লাহর কাঁধে। কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলে হাসারাঙ্গার বলে সুইপ করে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মাহমুদুল্লাহ। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ১টি ছক্কায় ২৭ রান করেন টাইগারদের সাবেক টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

মাহমুুদুল্লাহ ফেরার পর দু’টি চার মারেন মোসাদ্দেক হোসেন। ১৯তম ওভারে মাহেদি হাসানকে হারালে মাত্র ৭ রান পায় বাংলা-দেশ। তবে শেষ ওভারে ১৭ রান তুলেন মোসাদ্দেক ও তাসকিন। তাসকিন ১টি ছক্কা ও মোসাদ্দেক ২টি চার মারেন। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় রান ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলা-দেশ। ৯ বলে ৪টি চারে  ২৪ রানে অপরাজিত  থাকেন  মোসাদ্দেক। ৬ বলে ১টি ছক্কায় অপরাজিত ১১ রান করেন তাসকিন। শ্রীলংকার হাসারাঙ্গা-করুনারতেœ ২টি করে উইকেট নেন।

আরও দেখুনঃ

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন