মইন উদ্দীন আহমদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মইন উদ্দীন আহমদ  (১ নভেম্বর ১৯৩৬-২ সেপ্টেম্বর ২০১১) যিনি মন্টু ডাক্তার নামে সর্বাধিক পরিচিত। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রাজশাহী-১ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

মইন উদ্দীন আহমদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মইন উদ্দীন আহমদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

মইন উদ্দীন আহমদ ১ নভেম্বর ১৯৩৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত কালিম উদ্দীন আহমেদ চিকিৎসক ছিলেন ও মাতা মৃত বেগম দেল আফরোজ। তিনি রোকেয়া আহমেদকে বিয়ে করেন। তার ছেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসনের সাংসদ সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস অর্জন করে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

মইন উদ্দীন আহমদ চিকিৎসক ছিলেন। তিনি ছিলেন ১৯৭৩-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি ১৯৬৫-১৯৭০ সালে মনাকষা ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৬ সালের ছয়দফা, ১৯৬৯ সালের অসহোযোগ আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২২ নভেম্বর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ৭নং সেক্টরের মোহদীপুর সাব-সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও ১৯৭১-১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে তিনি তৎকালীন রাজশাহী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। ১৯৮৫ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

মইন উদ্দীন আহমদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মৃত্যু

মইন উদ্দীন আহমদ ২ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ সদস্য

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

মইন উদ্দীন আহমদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

সাধারণত সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন