মাহবুবুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মাহবুবুর রহমান (৫ জানুয়ারি ১৯৪০–২৭ মার্চ ২০২১) বাংলাদেশী আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ যিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন।

মাহবুবুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মাহবুবুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

ব্যক্তিগত জীবন

মাহবুবুর- রহমান ৫ জানুয়ারি ১৯৪০ সালে নোয়াখালীর চাটখিলের দৌলতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডাঃ ফিরোজা বেগমের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পাঁচ ছেলে মেয়ে রয়েছে। ফিরোজা বেগম ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে ফারাহ মাহবুব বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

মাহবুবুর -রহমান ১৪ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত এরশাদ সরকারের মন্ত্রী সভায় শিক্ষা, তথ্য, স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়, পানি সম্পদ, পাট ও ধর্ম সহ নয়টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে নোয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। ২০০৮ সালের তিনি পুনরায় জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান।

মৃত্যু

মাহবুবুর রহমান ২৭ মার্চ ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

মাহবুবুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সংসদ সদস্য

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

 

মাহবুবুর রহমান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন