মিজানুর রহমান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মিজানুর রহমান চৌধুরী (১৯ অক্টোবর ১৯২৮ – ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৬) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে ৯ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ২৭ মার্চ ১৯৮৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মিজানুর রহমান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মিজানুর রহমান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম

মিজানুর -রহমান চৌধুরী ১৯২৮ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার পুরাণবাজারস্থ পূর্ব শ্রীরামদী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ হাফিজ চৌধুরী এবং মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ মাহমুদা বেগম।

রাজনীতি

কলেজ থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। যখন শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কারাগারে ছিলেন তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।। ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেও গ্রেফতার হন। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তিনি সম্মিলিত বিরোধী দলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

 

মিজানুর রহমান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

স্বাধীন বাংলাদেশ

৭০ এর নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ এর সংসদে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রী সভায় তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব নিহত হলে বাকশাল সরকারের পতন হয় এবং জিয়াউর রহমান সরকার বহুদলীয় রাজনীতির অনুমোদন দিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং আবদুল মালেক উকিল এবং মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দু’টি পৃথক ধারার সৃষ্টি হয়।

 

মিজানুর রহমান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

এরশাদের সরকার

আশির দশকের শুরু দিকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক সরকারকে সমর্থন দেন এবং জাতীয় পার্টিতে (সেসময়ের নাম জাতীয় দল)যোগ দেন (১৯৮৪)। ১৯৮৬ তে প্রধানমন্ত্রী হন। এরশাদের রাষ্ট্রপতি থাকা কালীন তিনি দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মার্চ, ১৯৮৮ তে মওদুদ আহমেদ তার স্থলে প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯০ সালে এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেন। ১৯৯০ তে এরশাদ সরকার পতনের পর এরশাদ জেলে থাকাকালীন তিনি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।

মৃত্যু

২০০৬ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন