রাজনৈতিক শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]

This post is also available in: বাংলাদেশ

আমরা এখানে একটি রাজনৈতিক শব্দকোষ বা Glossary of Politics তৈরি করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন দল ও মতের রাজনৈতিক কর্মী, রাজনৈতিক লেখক সহ অনেকেরই এটি দরকার হয়। তাদের সবার কাজ সহজ করতে এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। আশা করি এই কাজটি তাদের সহায়তা করবে। খুঁজতে এসে আপনার কোন প্রত্যাশিত শব্দ যদি আমাদের তালিকায় খুঁজে না পান, তবে আমাদের জানিয়ে দিন। আমরা যতটা দ্রুত সম্ভব, সেই শব্দটি যোগ করে দেবো। এই আর্টিকেলটিতে প্রতিনিয়ত উন্নয়ন কাজ চলবে। রাজনীতি বিষয়ক সব শব্দ এবং তার বিস্তারিত অর্থ ও ব্যবহার জানতে আমাদের এই উদ্যোগটির সাথে যুক্ত থাকুন।

 

রাজনৈতিক শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]

 

রাজনৈতিক শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]

ক দিয়ে সকল রাজনৈতিক শব্দ

কংগ্রেস [ Congress ] :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট ফেডারেল আইন পরিষদ। কক্ষ দুটি হল, সিনেট এবং প্রতিনিধিসভা বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ়স্। মার্কিন সংবিধানের এক নম্বর ধারায় বলা আছে যে, এই সংবিধানে প্রদত্ত সকল ক্ষমতার এখতিয়ার হচ্ছে উত্ত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কংগ্রেসের।

 

রাজনৈতিক শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]
Congress, কংগ্রেস

প্রত্যেক জোেড় বৎসরের প্রথম মঙ্গলবারে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় (শুধু মেইন রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে)। সিনেটের সদস্যরা সিনেটর এবং প্রতিনিধিসভার সদস্যরা কংগ্রেসম্যান নামে পরিচিত হন।

কনকরড্যাট [ Concordat ] :

সাধারণত পোপ বা ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং কোনো সার্বভৌম সরকারের মধ্যে চার্চ ও রাষ্ট্রের সম্পর্কবিষয়ক কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে, সেই চুক্তিকে বলে কনকরড্যাট

 

কনকরড্যাট [ Concordat ]
কনকরড্যাট [ Concordat ]

কনডোমিনিয়াম [ Condominium ] :

কোনো এলাকাবিশেষের ওপর দুই বা ততধিক রাষ্ট্র যৌথভাবে শাসনকার্য পরিচালনা এবং সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করলে, এরূপ এলাকা বা অঞ্চলকে বলে কনডোমিনিয়াম। এরূপ শাসন বা সার্বভৌম ক্ষমতাপ্রয়োগের ব্যাপারটিকেও কনডোমিনিয়াম বলা হয়।

কনফুসিয়াস [ Confucius ] :

কনফুসিয়াস (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১-৪৭৯) চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের মতে প্রতিটি মানুষের ‘ভাগ্য’ ও ‘চরিত্র’ ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত, তার পরিবর্তনের কোনো উপায় নেই। কনফুসিয়াসের অন্যতম অনুসারী মেংজু (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭২-২৮৯)-এর মতে সামাজিক বৈষম্য ঈশ্বরের ইচ্ছারই ফলশ্রুতি। তাঁর অপর এক অনুসারী স্যুনজু (খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮-২৩৮) বলেন যে, ঈশ্বর আসলে প্রকৃতিরই অংশ এবং ঈশ্বর চেতনারহিত।

তাঁর অপর এক অনুসারী ছিলেন তুং চুং স্যু (খ্রিস্টপূর্ব ১৭৭-১০৪)। কনফুসিয়াসবাদের শিক্ষাই হল সুবিধাভোগী শ্রেণীর আধিপত্য কায়েম করা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা’-র জয়গান করা। কনফুসিয়াস আচরণ ও শিষ্টাচারের নীতিমালাও প্রণয়ন করেন এবং এর প্রধান কথা হল, কনিষ্ঠেরা জ্যেষ্ঠের কাছে এবং অধস্তনরা উপরস্থদের কাছে বিনীতভাবে আত্মসমর্পণ করবে। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে চুশি (১১৩০-১২০০) প্রমুখ নয়া কনফুসিয়াসবাদের প্রবর্তন করনে।

 

কনফুসিয়াস [ Confucius ]
কনফুসিয়াস [ Confucius ]

এই দর্শন অনুযায়ী, সৃষ্টির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে, যথা, লি, অর্থাৎ সচেতন সৃষ্টিধর্মী নীতি এবং চি, অর্থাৎ অচেতন বস্তু। লি মানুষের মধ্যে গুনের এবং চি দোষ ও পাপের জন্ম দেয়। ওয়াং ইয়াং মিং (১৪৭২-১৫২৮) এই মতবাদকে আরও বিকশিত করেন। তাও মতবাদ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদের সঙ্গে কনফুসিয়াসবাদও দীর্ঘদিন যাবৎ সামন্তবাদী চীনের প্রধান আদর্শ হিসাবে বহাল ছিল।

চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর কনফুসিয়াসবাদের চর্চা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে কনফুসিয়াসের চিন্তাধারা নিয়ে ভাবনাচিন্তার পুনঃসূচনা ঘটে এবং তাঁর সমাধি জনগণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

কনফেডারেশন [ Confederation ] :

কতিপয় সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র যদি কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে একটি ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ হয়, তা হলে সেই ইউনিয়নকে বলে কনফেডারেশন। কনফেডারেশনভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ সম্পূর্ণরূপে সার্বভৌম থাকে এবং কনফেডারেশনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের জনগণের ওপর বাধ্যতামূলক হয় না।

কনফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাষ্ট্রের এমন ক্ষমতা থাকে, যাতে যখনই ইচ্ছা তখনই যে-কোনো রাষ্ট্র কনফেডারেশন থেকে আলাদা বা মুক্ত হয়ে যেতে পারে। কনফেডারেশনের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কাঠামো গঠন করা হয়। বলাবাহুল্য, কনফেডারেশন কোনো অর্থেই একটি একক রাষ্ট্র নয়।

 

কনফেডারেশন [ Confederation ] Canadian Confederation, Fathers of Confederation LAC
কনফেডারেশন [ Confederation ] Canadian Confederation, Fathers of Confederation LAC

কনফেডারেশন গঠিত হয় প্রধানত পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষার স্বার্থে। উদাহরণস্বরূপ, নেদারল্যান্ডস (১৫৮০-১৭৯৫), যুক্তরাষ্ট্র (১৭৭৮-১৭৮৭), সুইজারল্যান্ড (১৭৯১-১৭৯৮), জার্মানি (১৮১৫-১৮৬৬) ইত্যাদি কনফেডারেশনের কথা উল্লেখ করা যায়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর পর কনফেডারেশন প্রকৃত প্রস্তাবে আর দেখা যায়নি। পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত আর.সি.ডি. (উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা) বা অনুরূপ অন্যান্য ঐক্যসংস্থা প্রকৃত অর্থে কনফেডারেশন ছিল না।

 

কনভয় [ Convoy ] :

সাধারণত এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ বা সশস্ত্র জাহাজ যদি অন্য একটি বা কতিপয় যাত্রীবাহী বা বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে, তা হলে সেই জাহাজ বা জাহাজসমষ্টিকে বলে কনভয়। আবার পুরো বহরটিকেও কনভয় বলা যায়।

কুনমিং ঘোষণা [ Kunming Declaration ] :

চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের প্রতিনিধিরা চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কনমিং-এ তিনদিনব্যাপী আলোচনা শেষে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে-ঘোষণা দেন, সেটাই কুনমিং ঘোষণা (Kunming Declearation) নামে অভিহিত।

কুনমিং ঘোষণা [ Kunming Declaration ]
কুনমিং ঘোষণা [ Kunming Declaration ]

১৯৯৮ সালের ১৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই ঘোষণায় চার দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং সড়ক, নৌ ও রেলযোগাযোগ স্থাপনের অপরিহার্যতার কথা প্রকাশ করা হয়।

কনসাল [ Consul ] :

ভিন্ন রাষ্ট্রে বা ভিন্ন রাষ্ট্রের কোনো প্রদেশে বা অঞ্চলে অবস্থানকারী স্বদেশের নাগরিকদের স্বার্থরক্ষা এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নসাধনের জন্য নিযুক্ত কর্মকর্তাকেই বলে কনসাল। পদমর্যাদার দিক থেকে রাষ্ট্রদূতের নিচেই কনসালের স্থান। অনেক সময় পদটির মর্যাদা বৃদ্ধি করে ‘কনসাল জেনারলে’ও নিযুক্ত করা হয়।

কনসেনট্রেশন ক্যাম্প [ Concentration Camp ] :

১৯০০-১৯০২ সালে লর্ড কিচেনার দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বপ্রথম কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং বুয়র নাগরিকদের এখানে আবদ্ধ করে রাখেন, যাতে তারা গেরিলাদের সহায়তা করতে না পারে। বাজে প্রশাসন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নির্যাতনের জন্য এসব ক্যাম্প অচিরেই কুখ্যাত হয়ে ওঠে। ১৯৩৩ সালে নাৎসিরাও জার্মানিতে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করে।

কনসেনট্রেশন ক্যাম্প [ Concentration Camp ]
কনসেনট্রেশন ক্যাম্প [ Concentration Camp ]

এসব ক্যাম্পে বন্দিদের ওপর পৈশাচিক নিপীড়ন চালানো হত, যার ফলে অনেকেই মৃত্যুবরণ করত। এসব ক্যাম্প থেকেই জার্মান যুদ্ধসরঞ্জাম তৈরির কারখানাসমূহে দাসশ্রমিক সরবরাহ করা হত। এদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল বুচেনওয়াল্ড ক্যাম্প; এখানে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে দুই লক্ষ ঊনচল্লিশ হাজার বন্দিকে আটকে রাখা হয়। পোল্যান্ডের বেলসেন ও অসুইজ নামক স্থানেও নাৎসিরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করে।

হাঙ্গেরি ও রুমানিয়ায়ও এরূপ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় না ৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পসমূহে লক্ষ লক্ষ ইহুদির মৃত্যু ঘটে। বস্তুত এই ক্যাম্প হল রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর বর্বরতম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক কারাগার।

কনসোর্টিয়াম [ Consortium ] :

কোনো জটিল প্রকল্প বা একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবায়িত করা দুরূহ, এমন প্রকল্প বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান গ্রুপবদ্ধ হয়ে কাজ করলে এরূপ গ্রুপকে বলে কনসোর্টিয়াম। শুধু কতিপয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই নয়, কোনো বিশেষ প্রকল্প বা কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করার জন্য কতিপয় রাষ্ট্রকে নিয়েও কনসোর্টিয়াম গঠিত হতে পারে।

কনস্টিটিউআন্ট অ্যাসেম্বলি [ Constituent Asssembly]  জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সেই পরিষদ, যেই পরিষদের একমাত্র দায়িত্ব জাতির জন্য একটি শাসনতন্ত্র হওয়ার এর কার্যকারিতাও হয়ে যায়। বাংলায় একে বলা যেতে পারে, “শাসনতন্ত্র প্রণয়ন (গণপরিষদ দ্রষ্টব্য)।

কসক্রিপশন [ Conscription ] :

কসক্রিপশন [ Conscription ] অর্থ সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে লোক ভর্তি। কোন জাতীয় জরুরী অবস্থার সময়, বিশেষ সকল সক্ষম নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে ভর্তির্ত করাকে কন্সূক্রিপশন।

কন্টাডোরা গ্রুপ [ Contadora Group ] :

কন্টাডোরা গ্রুপ [ Contadora Group ] গ্রুপ ল্যাটিন আমেরিকার একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংস্থা। মেক্সিকো, ভেনিজুয়েলা, পানামা এবং কলম্বিয়াকে নিয়ে কন্টাডোরা গ্রুপ (Contadora Group) গঠিত। ল্যাটিন আমেরিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল বিদেশী শক্তির প্রভাব হ্রাস করাই কন্টাডোরা গ্রুপের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস [ Conditioned Reflexes ] ও আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস  [ Unconditioned Reflexes ] :

কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্সেস [ Conditioned Reflexes ] শরীরের বিভিন্ন গ্রাহকযন্ত্র ও কেন্দ্রীয় মাধ্যমে জীবজন্তু যে-সমস্ত বিষয় বা প্রতিক্রিয়া আত্মস্থ করে, সেগুলোকেই হয় কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস।

অপরদিকে জীবসত্ত্বা (Organism) জন্মগতভাবে যে-সমস্ত চেতনা, প্রবণতা লাভ করে সেগুলোকে বলা আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস  (Unconditioned Reflexes)। আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেসকে আরেক কথায় বলা যায় জন্মগত প্রবৃত্তি, যা যে-কোনো প্রাণীর সকল সদস্যের মধ্যে প্রায় সমভাবে বিদ্যমান; যেমন, খাদ্য গ্রহণের প্রবৃত্তি, যৌনমিলনের প্রবৃত্তি, সন্তানের প্রতি মমতা, ভীতি, মৌমাছির মৌচাক তৈরির দক্ষতা, হায়েনার হিংস্রতা, পাখির বাসা তৈরির জ্ঞান ইত্যাদি।

 

কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস [ Conditioned Reflexes ] ও আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস  [ Unconditioned Reflexes ]
কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস [ Conditioned Reflexes ] ও আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস  [ Unconditioned Reflexes ]

এই জন্মগত প্রবৃত্তিসমূহ প্রধানত মস্তিষ্কের নিম্নাংশে ধারণকৃত থাকে। আর কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্সেস অভিজ্ঞতাগত চেতনা প্রবণতা মানুষ ও অন্যান্য উচ্চতর জীব অর্জন করে স্ব স্ব জীবনধারার দিয়ে। কন্ডিশানড্ রিফ্লেক্সেস একই প্রাণীর সকল সদস্যের মধ্যে একইভাবে বিরাজ করে না।

কন্ডিশান্‌ড্ রিফ্লেক্সেস ধারণকৃত হয় মস্তিষ্কের উপরাংশে (Cerebral cortex-এ)। আধুনিক প্রমাণ করেছে যে, কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্সেস-এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে শুধু তথ্যই সঞ্চিত না, বরং সেসব তথ্যের যাচাই ও প্রসেসিংও হয় এবং তা আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেস বা জন্মগত প্রবৃত্তিকেও প্রভাবিত করে।

মানুষ ও উচ্চতর প্রাণীর মধ্যে কন্ডিশান্ড ও আনকন্ডিশন্ড রিফ্লেক্সেসের ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চেতনা, অনুভূতি ইত্যাদি যথার্থ রূপালাভ করে,  বিবর্তিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে এসবের প্রকাশ ঘটে। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতির ক্ষেত্রেও কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্সেস-এর প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না।

কমনওয়েলথ [ Commonwealth ]:

যে-সমস্ত একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তভূক্ত ছিল কিন্তু বর্তমানে স্বাধীন, সে-সমস্ত রাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যকে নিয়েই কমনওয়েলথ (Commonwealth) গঠিত। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত অঞ্চলসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সুষম উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যেই কমনওয়েলথ গঠিত। কমনওয়েলথ-এর সদস্যেরা অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক সকল সম্পূর্ণ স্বাধীন; শুধু ঐক্যের প্রতীক হিসাবে তারা ব্রিটেনের রানির প্রতি নাম মাত্র আনুগত্য প্রদর্শন করে।

 

কমনওয়েলথ [ Commonwealth ]:
কমনওয়েলথ [ Commonwealth ]:

ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে উপনিবেশসমূহে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠলে ১৮৮৭ সাল থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত বিভিন্ন সরকারদের বৈঠক ও আলোচনার রেওয়াজ চালু করা হয়। এই বৈঠকসমূহকে বলা হত ইম্পেরিয়াল কনফারেন্স। ১৯২৩ সালে এরূপ এক কনফারেন্সে বিভিন্ন অঞ্চল বা ডোমিনিয়নকে ব্রিটিশ রাজ্যের নামে আলাদাভাবে চুক্তি ইত্যাদি সম্পাদন করার অধিকার দেওয়া হয়।

১৯৩১ সালে স্ট্যাচুট অব ওয়েস্টমিনস্টার (Statute of Westminster) মোতাবেক কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের স্ব-স্ব সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯২৬ সালের ইম্পেরিয়াল কনফারেন্সেই বলা হয় যে, কমনওয়েলথের সদস্যদের প্রত্যেকেরই মর্যাদা হবে সমান, কেউ কোনোক্রমেই কারও অধীন হবে না, তা অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক যে-কোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন। কমনওয়েলথের যে-কোনো সদস্য যে-কোনো সময় ইচ্ছা করলেই কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

কমন ল [ Common Law ] :

ইংল্যাড, ওয়েলস্ কানাডাসহ সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন দেশে কমন ল বা সাধারণ আইন প্রচলিত আছে। সামাজিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে আদালত যেসব রায় ও ব্যাখ্যা (Interpretation) প্রদান করে, সেগুলোকেই সমন্বিতভাবে বলা হয় কমন ল।

 

কমন ল [ Common Law ]
কমন ল [ Common Law ]

সিভিল ল-এর সঙ্গে কমন ল-এর পার্থক্য এই যে, সিভিল ল কোনো পার্লামেন্ট বা আইনসভা কর্তৃক প্রণীত এবং একসঙ্গে বিধিবদ্ধ (Codified) অথচ কমন ল বিক্ষিপ্ত। কিন্তু, বর্তমানে একজন ব্যক্তি—বিচারকের রায় বা ব্যাখ্যাকেই চূড়ান্ত আইন বলে মেনে নেওয়া যায় কি না এ ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন দেশেও ক্রমশ বিধিবদ্ধ আইনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কমান্ডো [ Commondo ] :

বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেইসব ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, যারা এককভাবে বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রুপে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে (যেমন, যুদ্ধজাহাজে, বিমানবন্দরে, অস্ত্রাগারে, সেনা ছাউনিতে, অর্থনৈতিক, সামরিক বা বৈজ্ঞানিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য স্থাপনায় কিংবা কোনো বিশেষ ব্যক্তির অবস্থানস্থলে) অতর্কিত আঘাত হানতে এবং পালটা হামলার আগেই সরে পড়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষতসম্পন্ন। কমান্ডোদের কাজ সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ।

কমিউন [ ফরাসি Commune ]:

শব্দের অর্থ হল সংঘ বা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৮৭১ সালে ফ্রান্সের বিপ্লবীরা প্যারি কমিউন গঠন করে। বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশের স্বায়ত্তশাসিত ইউনিটসমূহকেও বলা হয় কমিউন। কমিউনের বৈশিষ্ট্য হল এই যে, কমিউনের সকল সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কমিউন পরিচালিত হয়।

কমিউন [ ফরাসি Commune ]
কমিউন [ ফরাসি Commune ]

বস্তুত কমিউনের সকল সদস্যের ইচ্ছার ভিত্তিতেই সেখানকার উৎপাদন, বণ্টন, উন্নয়ন, প্রশাসন ইত্যাদি পরিচালনা করা হয়। চীনে আশির দশকে কমিউনসমূহের নাম পরিবর্তন করে উৎপাদন কোম্পানি রাখা হয়। একটি স্বায়ত্তশাসিত কৃষি বা শিল্পঅঞ্চলে কমিউন গঠিত হতে পারে। বলাবাহুল্য, কমিউন শব্দ থেকেই ‘কমিউনিজম’ ও ‘কমিউনিস্ট’ শব্দের উৎপত্তি।

কমিউনিজম, যুদ্ধকালীন [ War Communism ]:

যুদ্ধবিধ্বস্ত, জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য লেনিন যুদ্ধকালীন কমিউনিজমের প্রবর্তন করেন। গৃহযুদ্ধের দরুন এই অবস্থা প্রলম্বিত হয়। বস্তুত ১৯১৮ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে ১৯২১ সালের বসন্তকাল পর্যন্ত যুদ্ধকালীন কমিউনিজম বলবৎ থাকে। এই সময়কার নীতি অনুসারে খাদ্যশস্যের দাম বেঁধে দেওয়া হয় (প্রধানত সশস্ত্র বাহিনীসমূহের প্রয়োজন মেটানোর স্বার্থে) এবং উদ্বৃত শস্য নির্ধারিত মূল্যে সরকারের নিকট হস্তান্তর বাধ্যতামূলক করা হয়।

১৯১৮ সালের ২৮ জুন এক ডিক্রির মাধ্যমে ৩৭০০টি বৃহৎ শিল্পকে জাতীয়করণ করা হয়। ১৯২০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধ্যকতা (Conscription) সকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়। এই সময় ব্যাংক ও ব্যাবসা-বাণিজ্য জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার ফলে শিল্প ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয় এবং পরিণামে চার কোটি মানুষ অপুষ্টির এবং পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ অনাহারে মৃত্যুর শিকার হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২১ সালে যুদ্ধকালীন কমিউনিজম বাদ দিয়ে নয়া অর্থনৈতিক নীতি (NEP) গ্রহণ করা হয়।

কমিউনিস্ট বিশ্বে ধস [ Fall of Communism ] :

বিংশ শতাব্দীর আশির দশক থেকেই শুরু হয় কমিউনিজমের উচ্ছেদপ্রক্রিয়া। সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচভ তাঁর সত্রয়কা ও গ্লাসনস্ট তত্ত্বের মাধ্যমে কমিউনিজমকে খোলাখুলি বিতর্কে নিয়ে আসেন। পরিণামে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিজম পরিত্যক্ত হয়, মার্কস-এঙ্গেলস-লেনিনের পুস্তকাদি ভস্মীভূত করা হয়, ধ্বংস করা হয় তাঁদের সমস্ত ছবি ও মূর্তি। অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়।

 

কমিউনিস্ট বিশ্বে ধস [ Fall of Communism ]
কমিউনিস্ট বিশ্বে ধস [ Fall of Communism ]

একই সময়ে পূর্ব-ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশসমূহও আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিজম পরিত্যাগ করে পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করে। যুগোস্লাভিয়াও ভেঙে যায়। পূর্বজার্মানি পুনরায় পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়ে পড়ে। দেং জিয়াও পিং-এর নেতৃত্বে চীনও গ্রহণ করে খোলাবাজার অর্থনীতি । একই পথ অনুসরণ করে ভিয়েতনাম। উত্তর কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও কিউবাও ক্রমশ এগুতে থাকে পুঁজিবাদের দিকে।

বস্তুবাদী তত্ত্বানুযায়ী কমিউনিস্ট দেশসমূহে একদা যে-ধর্ম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, সেই ধর্মই আবার পূর্ণোদ্যমে ফিরে আসে। সমাজতন্ত্রের এই নাটকীয় ধসের কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, প্রথমত বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশেষত পারমাণবিক তত্ত্ব, আপেক্ষিককতার তত্ত্ব, ইলেক্ট্রনিক্স, জেনেটিকস, সাইবারনেটিকস ইত্যাদির বিস্ময়কর বিকাশের ফলে মার্কস-এঙ্গেলসের ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনেকাংশেই অচল বা অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে;

দ্বিতীয়ত শিল্পোন্নত দেশসমূহেই শ্রেণীসংগ্রাম তীক্ষ্ণ ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হবে বলে যে-তত্ত্ব প্রদান করা হয়েছিল, তাও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়, তৃতীয়ত সমাজতন্ত্র জনগণের মধ্যে কর্মোদ্যোগের সৃষ্টি ও উৎপাদনবৃদ্ধিতেও ব্যর্থ হয়; চতুর্থত উ ৎপাদিকাশক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব নিরসনেও সমাজতন্ত্র বিফল হয় এবং পঞ্চমত তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের জনগণ মুক্তবিশ্বের সংস্পর্শে আসে এবং গণতন্ত্রহীন-ব্যক্তিস্বাধীনতাহীন পরিস্থিতি মেনে নিতে অস্বীকার করে।

কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো [ Communist Manifesto ] :

মার্কস ও এঙ্গেলস প্রণীত কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো বা কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার প্রকাশিত হয় ১৮৪৮ সালে। এটাই ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রথম কর্মসূচিগত দলিল । এর ‘বুর্জোয়া ও সর্বহারা’ শীর্ষক প্রথম অধ্যায়ে সমাজ বিকাশের অব্যর্থ নিয়মসমূহ ব্যাখ্যা করা হয় এবং প্রমাণ করা হয় যে, এযাবৎকালীন মানবসমাজের ইতিহাস আসলে শ্রেণীসংগ্রামেরই ইতিহাস।

কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো [ Communist Manifesto ]
কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো [ Communist Manifesto ]

এই অধ্যায়ে তাঁরা আরও ঘোষণা করেন যে, পুঁজিবাদের ধ্বংস এবং সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠা অবশ্যম্ভাবী, আর শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণীই হবে এই বিপ্লবী পরিবর্তনের মূল শক্তি। ‘সর্বহারা ও কমিউনিস্ট’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধ্যায়ে মার্কস-এঙ্গেলস কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক ভূমিকার বিশ্লেষণ করেন এবং ঘোষণা করেন যে, কমিউনিস্টদের আশু কর্তব্য হচ্ছে বুর্জোয়াদের উচ্ছেদ করে সর্বহারা-রাজ কায়েম করা।

এই অধ্যায়ে তাঁরা সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের তত্ত্ব হাজির করেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে সর্বহারারা কী কী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, তার বিবরণ দেন। তৃতীয় অধ্যায় হল ‘সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী বই পুস্তক’ শীর্ষক। এই অধ্যায়ে সমাজতন্ত্রের আবরণে বুর্জোয় ও পেটি বুর্জোয়া ঝোঁকের বিষয় আলোচনা করা হয়।

অবস্থিত বিরোধীদলসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে কমিউনিস্টদের অবস্থান’ শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়ে তাঁরা বিরোধী শক্তিসমূহের মোকাবেলায় কমিউনিস্টদের কৌশলের বিষয়ে আলোচনা করেন। এই ইশতেহারেই ঘোষণা করা হয়, “সর্বহারা শ্রেণীর শৃঙ্খল ছাড়া হারানোর আর কিছুই নেই”। এই ইশতেহারেই শ্লোগান তোলা হয়, “দুনিয়ার মজদুর এক হও”। এই ইশতেহারকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দলিল বলে বিবেচনা করা হয়।

কমিউনিস্ট লীগ, তরুণ :

১৯২১ সালে রাশিয়ার কমবয়সী কমিউনিস্ট ছেলেমেয়েদের এই সংগঠনটি গঠন করা হয়। ১৮ বা তার কমবয়সী ছেলেমেয়েরা সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টিতে না গিয়ে, তরুণ কমিউনিস্ট লীগে সংঘবদ্ধ হত। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে, এর যোগ্যতর সদস্যেরা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করত। লেনিন তরুণ কমিউনিস্ট লীগকে পার্টির সদস্য তৈরির স্কুল বলে অভিহিত করেন।

কমিনটার্ন [ Comintern ]:

এটি কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল কথাটিরই সংক্ষেপিত রূপ। বস্তুত এটি তৃতীয় আন্তর্জাতিকেরই অন্য নাম। গঠনের কাল থেকে কমিনটার্ন পুঁজিবাদী দেশসমূহের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করার জন্য উৎসাহ যোগাত। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অসমাজতন্ত্রী মিত্রদের প্রতি শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ কমিনটার্ন ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে এর কিছু-কিছু দায়িত্ব কমিনফর্ম গ্রহণ করে।

কমিনফর্ম [ Cominforn ] :

১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে সোভিয়েত ইউনিয়নের

উদ্যোগে বেলগ্রেডে কমিউনিস্ট ইনফরমেশন ব্যুরো (সংক্ষেপে কমিনফর্ম) গঠন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, ইতালি, পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট পার্টিসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও তথ্য বিনিময় করা।

 

Cominform Logo

 

১৯৪৮ সালে যুগোস্লাভিয়াকে কমিনফর্ম থেকে বহিষ্কার করা হলে, এর প্রধান কার্যালয় বুখারেস্টে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৫৬ সালে পুনরায় যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে সমঝোতা হলে, শর্ত মোতাবেক কমিনফর্ম ভেঙে দেওয়া হয়। যুক্তি হিসাবে বলা হয় যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহের সন্দেহ দূর করার উদ্দেশ্যেই কমিনফর্ম ভেঙে দেওয়া হল।

কমেকন [ Comecon ] :

এটি কাউন্সিল ফর মিউচুয়্যাল ইকনমিক অ্যাসিসটেন্স-এরই সংক্ষেপিত রূপ। ১৯৪৮ সালে পশ্চিম ইউরোপীয় দেশসমূহের মধ্যে যে-অর্থনৈতিক

আরও পড়ুন:

This post is also available in: বাংলাদেশ

“রাজনৈতিক শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন