বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি

This post is also available in: বাংলাদেশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি. তুরস্কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত বিমান-বন্দরের উদ্বোধন হয়ে গেল। এ বিমান-বন্দরের নাম হবে ‘ইস্তাম্বুল বিমান-বন্দর’। সোমবার এই বিমান-বন্দর উদ্বোধন করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ৷ এদিন দেশটির ৯৫তম স্বাধীনতা দিবস। কয়েক মাসের মধ্যেই ইস্তাম্বুলের প্রধান বিমান-বন্দর আতাতুর্কের পরিবর্তে এই বিমান-বন্দর দিয়েই যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে।

ট্রানজিট বিমান-বন্দর হিসেবে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকেই অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন ৷ যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন এই বিমান-বন্দরে ৷ প্রথম ধাপে খরচ হয়েছে ৫১০ কোটি ডলারের বেশি ইস্তাম্বুলের এই বিশাল নতুন বিমান-বন্দর তৈরি করতে৷ ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর আয়তনের এই বিমানবন্দরই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর৷

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি

 

এ বিমান-বন্দর পুরোদমে চালু হয়ে গেলে কামাল আতাতুর্ক বিমান-বন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ইস্তাম্বুলের এই বিমান-বন্দরকে তুরস্কের পক্ষ থেকে গ্রিন বা সবুজ বিমান-বন্দর বলা হচ্ছে। এই বিমানবন্দরে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদিও এ বিমান-বন্দর বানাতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করতে হয়েছে। কারণ অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

আপাতত দুটি রানওয়ে ও একটি টার্মিনাল চালু হয়েছে। এ সুযোগ–সুবিধা দিয়ে বছরে ৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। এর সঙ্গে একটি প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, একটি কার্গো হাউসও চালু হয়েছে। চালু হওয়া দুই রানওয়ের একটি ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার এবং অপরটি ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার লম্বা। এ বিমানবন্দরে আপাতত ৩৪৭টি বিমান অবস্থান করতে পারবে। ২০২৩ সাল নাগাদ এ বিমান-বন্দরের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে। তত দিনে এই বিমান-বন্দরে যুক্ত হবে আরও ৬টি রানওয়ে। ৫০০টি বিমান তখন একসঙ্গে এ বিমানবন্দরে অবস্থান করতে পারবে এবং বছরে ২০ কোটি যাত্রী এই বিমান-বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে তখন এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় করমুক্ত শপিং কমপ্লেক্সেও পরিণত হবে, যার আয়তন হবে ৫৩ হাজার বর্গমিটার।

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি

ইস্তাম্বুলে এ বিশাল বিমান-বন্দর তৈরি করাটা যেমন তুরস্কের কাছে খুব গর্বের বিষয়৷ তেমনি বিমানবন্দরকে ঘিরে বেশ কিছু বিতর্কও রয়েছে৷ কারণ শ্রমিকেরা এখানে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ৷ খারাপ মানের খাবারের পাশাপাশি আরও অনেক অত্যাচারও শ্রমিকদের সহ্য করতে হয়েছে বলে অভিযোগ৷ ২৭ শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছে এই বিমান-বন্দর তৈরি করতে৷ যদিও তুরস্কের সরকার এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে৷

এই বিমানবন্দরের নকশা পুরস্কারও জিতেছে। ২০১৬ সালে বার্লিনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচারাল ফেস্টিভ্যালে ‘ফিউচার প্রজেক্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে ইস্তাম্বুল বিমান-বন্দর। গত সোমবারই আঙ্কারার উদ্দেশে প্রথম ফ্লাইট উড়ে গেছে এ বিমান-বন্দর থেকেই। ইন্টারন্যাশনাল রুটে প্রথম ফ্লাইট যায় ইস্তাম্বুল থেকে সাইপ্রাস পর্যন্ত৷ এ বছর মূলত আজারবাইজান এবং সাইপ্রাসে বিমান চলবে এ বিমান-বন্দর থেকে। আগামী জানুয়ারিতে পুরোদমে চালু হবে এ বিমান-বন্দর। তখন নতুন এ বিমান-বন্দর থেকে ৩৫০টি গন্তব্যে বিমান যাতায়াত করতে পারবে৷

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কোনটি

 

আরও দেখুনঃ

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন