কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়

This post is also available in: বাংলাদেশ

কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়, হ্যা;কাররা কি আসলেই সব সময় হুডি পরে থাকেন? শীত ছাড়া কি তাঁদের জীবনে আর কোনো ঋতু নেই? একজন হ্যা;কারের ছবি কল্পনা করলেই দেখবেন হুডি পরা , মুখোশে মুখ ঢাকা ছবি মনে ভাসবে। যে কিনা আধো আলো আধো ছায়ায় বসে আছেন। সামনে একটি চাপতে থাকা কিবোর্ড। মনিটর থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ০ আর ১  সংখ্যা ।  টিভি অনুষ্ঠান হোক, চলচ্চিত্র হোক কিংবা সংবাদমাধ্যমের খবর, একজন হ্যা;কারকে দেখবেন এভাবেই উপস্থাপন করা হয়। আপনার মনের কথা বুঝে ফেলেছি, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

গণমাধ্যমে হ্যা;কারদের উপস্থাপনা বদলানো দরকার মনে করেন রজার্স। তিনি বলেছেন, হ্যা;কারদের উপস্থাপনায় আড়ালে থাকা হুডি পরা চিত্র তাঁদের আরও ভীতিকর করে তুলছে এবং সেই ভুল ধারণা বদলানো দরকার। সঙ্গে আহ্বান জানিয়েছেন, হ্যা;কারদের সম্পর্কে কাল্পনিক ধারণা তৈরির বদলে এসে দেখে যান তাঁরা কেমন।

 

কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়

 

কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়

 

কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায় 01 কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়

 

জীবনে কখনো কি তাঁদের পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে ঘুরে আসতে ইচ্ছা করে না? তারা কি হুডিই পরে থাকে ? হ্যা;কার কিন্তু নানা রকমের হয়। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যা;কাররা তথ্য চুরি করে তা থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হোয়াইট হ্যাট হ্যা;কারদের কাজ ঠিক উল্টো। তাঁরা যেকোনো সিস্টেমের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করে তা সংশোধন করতে বলেন। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করেন। তবে আমাদের মনে কোনো কারণে সব হ্যা;কারের একই ছবি গেঁথে গেছে। আর এর পেছনে গণমাধ্যমের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।

ক্যাসপারস্কি ল্যাবের প্রধান নিরাপত্তা গবেষক ব্রায়ান বার্থোলোমেউ ২০১৭ সালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২০০০ সালের দিকে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা খাতে কাজ শুরু করেন। তখন সংবাদমাধ্যম কিংবা হ্যা;কারদের কমিউনিটিতে হুডি পরা হ্যা;কারদের ছবি দেখা যেত না। তবে সময় যত গড়িয়েছে, হ্যাকিংয়ের খবরের সঙ্গে অলংকরণ হিসেবে বাইনারি সংকেতের ০ আর ১-এর ব্যবহার বাড়তে থাকে। সঙ্গে থাকে কি-বোর্ড আর তালার ছবি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্ক রজার্স সিএনএনকে বলেছেন, গেল শতকের আশির দশক এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হ্যা;কারদের ‘সাইবারপাঙ্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু হয়। সাইবারপাঙ্ক মূলত বিজ্ঞান কল্পকাহিনির একটি উপধারা, যাতে উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহার করলেও অনৈতিক জীবনধারার মানুষ দেখানো হয়।

মন্ডো ২০০০ সাময়িকীতে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘আর ইউ আ সাইবারপাঙ্ক?’ শীর্ষক নিবন্ধে হ্যা;কারদের পায়ে ভারী বুট জুতা, চামড়ার জ্যাকেট এবং হাতে ফিঙ্গারলেস দস্তানা দেখানো হয়। ১৯৯৫ সালে ‘হ্যাকার্স’ নামের থ্রিলারধর্মী সিনেমা মুক্তি পেলে হ্যাকারদের কাল্পনিক ছবিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। তখন দেখা গেল হ্যাকাররা বয়সে তরুণ, স্কেটবোর্ড চালান, নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। ইত্যাদি ইত্যাদি। মার্ক রজার্স বলেন, হ্যাকারদের সাইবারপাঙ্ক হিসেবে দেখানো তা-ও তেমন খারাপ উপস্থাপনা ছিল না। তবে সেখানেই থামেনি গণমাধ্যম। ক্রমে আগের ছবি মুছে সেখানে স্কেটবোর্ডে চড়া কিশোরের ছবি জায়গা করে নেয়।

চলতি শতকের শুরু থেকে হ্যাকিং এবং সাইবার অপরাধের খবর সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব নিয়ে প্রকাশ হতে শুরু করে। ফলে অলংকরণেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। একই সময়ে ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হয়। আর সে সময় থেকে মার্ক জাকারবার্গদের মতো হুডি পরা উদ্যোক্তাদের তরুণেরা আইডল হিসেবে দেখতে শুরু করেন। বার্থোলোমেউ বলেছেন, গণমাধ্যমে নিজেদের উপস্থাপনা নিয়ে হ্যাকারদের কমিউনিটিতে প্রায়ই হাসিঠাট্টা হয়। তবে তাঁরাও ক্রমে হুডিকে একরকম ‘জাতীয় পোশাক’ হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেন। নানা সম্মেলনে হ্যাকাররা নিজেদের লোগোযুক্ত হুডি পরে অংশ নিতে থাকেন।

 

কেন হ্যাকারদের হুডি পরে থাকতে দেখা যায়

 

আরও দেখুনঃ

This post is also available in: বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন