খুলনা জেলার রূপকথা – খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

This post is also available in: বাংলাদেশ

খুলনা জেলার রূপকথা রয়েছে অসংখ্য। আসলে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় কিছু না কিছু রূপকথার গল্প আছে [ বিশেষকরে যেসব জেলায় আলাদা ভাষাধারা ও সংস্কৃতি রয়েছে]। আমরা খুলনা জেলার সেসব গল্প থেকে, কিছু গল্প সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য আপলোড করলাম। এই আর্টিকেলটির নিচে অন্যান্য রূপকথার গল্পের আর্টিকেলগুলোর লিংক যুক্ত করে দেয়া হবে। আপনারা কোন রুপকথার গল্পের সন্ধান পেলে আমাদের জানাতে পারেন, আমরা সংগ্রহ করে সেগুলো আপলোড করে দেবো।

 

খুলনা জেলার রূপকথা - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা
রুপকথা

 

দেবী দুর্গার গল্প :

দেবী দুর্গার চার ছেলে মেয়ে, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ কার্তিক। লক্ষ্মীকে বর দিল সকলের ভাণ্ডারী হয়ে থাকবে, আর সরস্বতীকে বর দিল সকলের কন্ঠে তাঁর অবস্থান। নারায়ণ কৈলাশ থেকে ফিরে এলো এবং বলল তোমারে তো নরলোকের সবাই ডাকে, তাহলে চলো আমরা ধরাধামে ঘুরে আসি। তবে কোনো নরলোকে ডাকলে যদি তুমি ফেরো তাহলে বারো বছর তাদের দাস হয়ে থাকবা।

পথে সাত ভাইদের জমিতে তিলের ফুল ফুটেছে, লক্ষ্মী তা তুলতে গেলো এবং সাত ভাইগে কাছে ধরা পড়ল এবং তাদের বাড়িতে সে সাত বছরের জন্য দাস হয়ে খাটতে লাগল। যখন তাদের বাড়িতে গেলো তাদের সাত বউ, ভীষণ গরীব, ছাই ভষ্ম ছড়ানো সাতটা হাড়িতে রান্দে এবং সাতটা গর্তে যায়। লক্ষ্মী যে সব ফেলে দিয়ে নতুন করে রান্না করল। বউগুলো তাকে দেখতে পেত না। আর লক্ষ্মীকে যা খেতে দিত তা মাটির নীচে রেখে দিত এবং তা সোনা হয়ে যেত।

যখন বার বছর পুরে গেলো তখন লক্ষ্মী স্বর্গে যাবে, এমন সময় তার নিজের রূপ দেখালো। সাত ভাইরা জোড় হাতে মাফ চাইলো এবং সাত বউকে একটি করে চড় দিল। তাতে তারা মারা গেলো এবং পেঁচা, কাক, বক, বিড়েল, শিয়াল, কুকুর, শকুন হয়ে বনে চলে গেলো।

 

খুলনা জেলার রূপকথা - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

 

এক দেশের এক রাজা:

একদেশে ছিল এক রাজা। ভীষণ ধর্মপরায়ণ। গরীব দুখীর দুঃখ দূর করাই ছিল তার কাম্য। একদিন ছদ্মবেশে ঘোরার সময় শুনল খুবই দুখী তিন বোন গল্প করছে। বড় বোন আমার যদি লুচি আলার সাথে বিয়ে হতো । মেঝ বোন আমার যদি মাংস আলার সাথে বিয়ে হতো। আমরা সুখী হতাম, ছোট বোন বলে যদি আমার রাজার সাথে বিয়ে হতো তবে আমার একসাথে তিনটা বাচ্চা হতো।

একটি মেয়ে দুটি ছেলে। তারা হাসলে মুক্তা, কানলে হীরা ঝরতো। রাজা তাই করলেন। ওদের লুচি-আলা ও মাংস-আলার সাথে বিয়ে দিলেন এবং নিজে ছোটটাকে বিয়ে করলেন। যথাসময়ে রানি গর্ভাবস্থা হলেন এবং বাচ্চা হলো আর তারা হাসলে মুক্তা আর কানলে হীরা ঝরতে লাগলো। ঐ দুই বোন তাদের চুরি করে ভাগিয়ে দিলো এবং এক কামার তাদের পেলো। আর রানিকে বনবাসে দিলো। পরে রাজা সঠিক ঘটনা জানতে পারলো এবং ঐ দুই বোনকে শূলে চড়ালো।

এক রাজা ছিল যে কবিতা শুনতে ভালবাসতো। আর যারা কবিতা কোনোাাতো রাজা তাদের ধন-দৌলত দিতেন। সেখানে ছিল এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ যার খাবার জুটতো না। একদিন তার বউ বলল তুমি কবিতা বানিয়ে রাজাকে কোনোাাও তাহলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না। একদিন ব্রাহ্মণ পায়খানা করতে গিয়ে দেখে একটি ইঁদুর কটর কটর করে মাটি কাটে। তারপর দেখে একটি ব্যাঙ থপাত করে বসে পড়ে। তারপর দেখে মজার গুড়গুড় করে চলে। তখন ব্রাহ্মণ ছড়া কবিতা বানাল ।

কটর কটর মাটি কাটে

থপাত করে বসে পড়ল।

আলাপাড়ের বেটা ঝনঝনে

গুড়গুড় করে চলে গেলো।

 

খুলনা জেলার রূপকথা - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

 

ব্রাহ্মণ রাজাকে এটি কোনোাালো এবং রাজার পছন্দ হলো। রাজা এই কথা গুলো তার শয়ন কক্ষের দেয়ালে লিখে রাখলো। একদিন এক চোর রাজার ঘরের সিত কাটছে তখন রাজা ঐ ব্রাহ্মণের লাইনগুলো পড়ছে। দেখা যায় চোর যা করে তার সঙ্গে এটি মিলে যায়। দেখা যায় চোরের নাম ঝনঝনে তার বাবা আলাপাড়।

চোর যখন মাটি কাটেরাজা পড়ে কটর কটর মাটি কাটে। এই শুনে চোর বসে পড়ল তখন রাজা পড়ছে ‘থপাত করে বসে পড়ল। তারপর রাজা পড়ছে ‘আলাপাড়ের বেটা ঝনঝনে গুড়গুড় করে চলে গেলো।’ চোর মনে করল রাজা সব দেখে ফেলে, এখন তার মৃত্যুদণ্ড দিবে। সে রাজার কাছে মাফ চাইলো। রাজা ব্রাহ্মণকে অনেক পুরস্কার দিল। ব্রাহ্মণের আর দুঃখ থাকলো না।

 

খুলনা জেলার রূপকথা - খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা

 

খুলনা জেলার রূপকথার অন্যান্য গল্প:

This post is also available in: বাংলাদেশ

“খুলনা জেলার রূপকথা – খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লোকগল্প, লোককাহিনী, কিসসা, রূপকথা, উপকথা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন