কনফুসিয়াস

This post is also available in: বাংলাদেশ

কনফুসিয়াস [ Confucius ] (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১-৪৭৯) চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের মতে প্রতিটি মানুষের ‘ভাগ্য’ ও ‘চরিত্র’ ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত, তার পরিবর্তনের কোনো উপায় নেই। কনফুসিয়াসের অন্যতম অনুসারী মেংজু (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭২-২৮৯)-এর মতে সামাজিক বৈষম্য ঈশ্বরের ইচ্ছারই ফলশ্রুতি। তাঁর অপর এক অনুসারী স্যুনজু (খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮-২৩৮) বলেন যে, ঈশ্বর আসলে প্রকৃতিরই অংশ এবং ঈশ্বর চেতনারহিত।

কনফুসিয়াস [ Confucius ]

তাঁর অপর এক অনুসারী ছিলেন তুং চুং স্যু (খ্রিস্টপূর্ব ১৭৭-১০৪)। কনফুসিয়াসবাদের শিক্ষাই হল সুবিধাভোগী শ্রেণীর আধিপত্য কায়েম করা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা’-র জয়গান করা। কনফুসিয়াস আচরণ ও শিষ্টাচারের নীতিমালাও প্রণয়ন করেন এবং এর প্রধান কথা হল, কনিষ্ঠেরা জ্যেষ্ঠের কাছে এবং অধস্তনরা উপরস্থদের কাছে বিনীতভাবে আত্মসমর্পণ করবে। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে চুশি (১১৩০-১২০০) প্রমুখ নয়া কনফুসিয়াসবাদের প্রবর্তন করনে।

এই দর্শন অনুযায়ী, সৃষ্টির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে, যথা, লি, অর্থাৎ সচেতন সৃষ্টিধর্মী নীতি এবং চি, অর্থাৎ অচেতন বস্তু। লি মানুষের মধ্যে গুনের এবং চি দোষ ও পাপের জন্ম দেয়। ওয়াং ইয়াং মিং (১৪৭২-১৫২৮) এই মতবাদকে আরও বিকশিত করেন। তাও মতবাদ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদের সঙ্গে কনফুসিয়াসবাদও দীর্ঘদিন যাবৎ সামন্তবাদী চীনের প্রধান আদর্শ হিসাবে বহাল ছিল।

চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর কনফুসিয়াসবাদের চর্চা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে কনফুসিয়াসের চিন্তাধারা নিয়ে ভাবনাচিন্তার পুনঃসূচনা ঘটে এবং তাঁর সমাধি জনগণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

This post is also available in: বাংলাদেশ